পাকিস্তানের ১০০ কি.মি ভিতরে ঢুকে প্রত্যাঘাত, কোথায় কোথায় হামলা করল ভারত? জেনেনিন বিস্তারিত

পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব দিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানে সামরিক অভিযান চালাল ভারত। ভারতীয় সেনার স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার যৌথ উদ্যোগে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে এই অভিযানে পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে মোট ন’টি সন্ত্রাসবাদী আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে পাকিস্তান বিপর্যস্ত।

পাকিস্তানের কোথায় কোথায় আক্রমণ করে ভারত? প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি সুনির্দিষ্ট স্থানে এই হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলি ছিল জঙ্গিদের মূল ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নিচে সেগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো:

১. বাহাওয়ালপুর (পাকিস্তান): এটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ভিতরে অবস্থিত। এখানে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান কার্যালয় ছিল, যা ভারতীয় সেনা এই অভিযানে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

২. মুরিদকে (লাহোরের কাছে, পাকিস্তান): এই জঙ্গি আস্তানাটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল। এটি লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলার সঙ্গে এই সংগঠনের সরাসরি যোগ ছিল।

৩. গুলপুর (পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর): এটি পুঞ্চ-রাজৌরি অঞ্চল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল এবং এখানেও জঙ্গিদের একটি ঘাঁটি ছিল।

৪. লস্কর ক্যাম্প সাওয়াই (পিওকে): পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের তাংধর সেক্টরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভিতরে এই লস্কর ক্যাম্পটি অবস্থিত ছিল।

৫. বিলাল ক্যাম্প (পিওকে): এটি ছিল জইশ-ই-মহম্মদের একটি গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চপ্যাড, যা ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে জম্মু ও কাশ্মীর দিয়ে পাকিস্তানি জঙ্গিদের ভারতে ঢোকানো হতো।

৬. কোটলি (পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর): নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এটি ছিল লস্কর-ই-তৈবার একটি ক্যাম্প, যেখানে ৫০ জনেরও বেশি জঙ্গি সবসময় উপস্থিত থাকত বলে জানা যায়। এটি আত্মঘাতী হামলাকারীদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো।

৭. বার্নালা ক্যাম্প (পিওকে): নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এই ক্যাম্পটি অবস্থিত ছিল।

৮. সরজাল ক্যাম্প (পাকিস্তান): এটি সাম্বা-কাঠুয়া অঞ্চলের বিপরীতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জইশ-ই-মহম্মদের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল।

৯. মেহমুনা ক্যাম্প (শিয়ালকোটের কাছে, পাকিস্তান): আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এটি ছিল হিজবুল মুজাহিদিনের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প।

এই ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে ভারতীয় সেনা অত্যন্ত নিখুঁত লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে জইশ-ই-মুহাম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মূল ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত আক্রমণ চালিয়ে তা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রে খবর। ভারতীয় সেনার এই অভিযান এবং সাফল্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেখানকার সেনা আধিকারিকদের রাতের ঘুম উড়ে গেছে।

ভারতের তরফে আরও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে এই অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কোনও পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হয়নি। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং আঘাত হানার প্রশ্নে ভারত উল্লেখযোগ্য সংযম দেখিয়েছে। পিআইবি-র পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, বিমান হামলার সময় পাকিস্তানের সামরিক স্থানগুলোতে কোনও আঘাত করা হয়নি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, ভারতের এই অভিযানের আসল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সংঘাত বাড়ানো কখনও উদ্দেশ্য নয়।