‘ইউক্রেনের পুনর্জন্ম হয়েছে’-আবেগঘন বক্তব্য প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির

৩১তম স্বাধীনতা দিবসে জাতির উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বুধবারের ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর তাদের দেশের পুনর্জন্ম হয়েছে। মস্কোর আধিপত্য থেকে মুক্তির জন্য তারা লড়াই ছাড়বে না বলেও অঙ্গীকার করেছেন তিনি। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। প্রায় ছয় মাস ধরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছেই।
জেলেনস্কি বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টায় বিশ্ব একটি নতুন দেশকে দেখেছে। এই দেশটির জন্ম হয়নি, বরং পুনর্জন্ম হয়েছে। আমরা কাঁদি না, চিৎকার অথবা আক্রমণ করি। আমরা শত্রুকে দেখে পালিয়ে যাই না, হাল ছেড়ে দেই না এবং আমরা কিছু ভুলে যাইনি।
এদিকে, চলতি বছর স্বাধীনতা দিবসে তেমন কোনো জাকজমক থাকছে না ইউক্রেনে। রাজধানী কিয়েভে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং যুদ্ধের সামনের সারিতে থাকা পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে কারফিউ বলবৎ রয়েছে। যেখানে কয়েক মাস ধরে গোলাবর্ষণ হচ্ছে। ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও অকেজো হয়ে যাওয়া রুশ ট্যাংক কিয়েভের রাস্তায় রেখে প্রদর্শনী করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ‘রাশিয়ার উস্কানির’ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা আমাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকির বিরুদ্ধে লড়ছি আর এটি এমন এক সময়ে যখন আমরা জাতীয় ঐক্যের সর্বোচ্চ স্তর অর্জন করেছি’।
এদিকে ইউক্রেনকে নতুন করে আরও ৩০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসতে পারে। ছয় মাস ধরেই কিয়েভকে একের পর এক সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে যে, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে মস্কো। অপরদিকে রুশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে বিশ্ব নেতারা কিয়েভের প্রতি পুনরায় সমর্থন ব্যক্ত করার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র বড় অংকের এই সামরিক সহায়তা ঘোষণা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।