‘বন্দেমাতরম’ – দেশমাতৃকার বন্দনা ও সুরক্ষার কবচ – সার্ধশতবর্ষে বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

বন্দেমাতরম’ শুধু একটি শব্দ নয়, এটি আসলে ‘দেশ-মা’-কে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন। এই ‘মা’ হলেন অখণ্ড ভারতবর্ষের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, মাতৃকা উপাসনার এক সনাতনী ভৌমরূপ। এই মন্ত্রকে পাথেয় করেই ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে হাজার হাজার বীর আত্ম বলিদান দিয়েছেন। ‘বন্দেমাতরম’ মন্ত্রের রয়েছে অসাধারণ আকর্ষণীয় ও দিব্য শক্তি, যা বর্তমানে ভারতের সুরক্ষা কবচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই মন্ত্রের সার্ধ শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এর শক্তিকে বিশেষভাবে অনুশীলন করে অন্তরাত্মাকে শাণিত করার উদ্দেশ্যেই জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী ট্রাস্টের সদস্যরা এই বিশেষ আয়োজনে ব্রতী হয়েছিলেন, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতারা বারবার স্মরণ করেছেন।

গত ৪ মে গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচারের বিবেকানন্দ সভাগৃহে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন ইনস্টিটিউটের সম্পাদক স্বামী সুপর্ণানন্দজী মহারাজ। জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক শক্তিময় দাশ সূচক ভাষণ দেন। বহু জ্ঞানীগুণী মানুষের উপস্থিতিতে সভাটি এক অন্য মাত্রা পায়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ‘দেশের মাটি’ সংগঠনের সঙ্গীত ও বাচিক শিল্পী এবং দর্শকমণ্ডলীর কথায় বারবার উঠে আসে যে, ভারতবর্ষের মতো এক অতুল্য দেশকে জননী রূপে জ্ঞান করে শ্রদ্ধা-ভক্তি নিবেদন করাই হলো ‘বন্দেমাতরম’। যে দেশের মাটি ও সম্পদ গ্রহণ করে ভারতবাসীর শরীর গঠিত হয়েছে, যে দেশের গৌরবে তাঁদের হৃদয় অপার আনন্দ অনুভব করে এবং যে দেশ তাঁদের অন্তরাত্মার সন্ধান দিয়েছে – সেই দেশই ভারতমাতা রূপে সকলের কাছে প্রতিভাত হয়েছে। এই গভীর ভাব জগতে অবগাহন করার উদ্দেশ্যেই সকলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

এদিনের উদ্বোধনী পর্বে সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সুরের ছোঁয়া’ পরিচালিত সংস্থা সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে। ‘দেশের মাটি মাতৃ মিলন মন্দির’-এর পরিচালনায় একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সঙ্ঘমিত্রা মিশ্র। ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর পক্ষ থেকে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্নেহাংশু দত্ত। প্রসেনজিৎ মণ্ডলের ‘রানাঘাট কথামালা’ একটি গীতি আলেখ্য উপস্থাপন করে।

এছাড়াও সুমিত্রা খাসনবিশ, ড: রুবেল পাল, অনুরাধা চক্রবর্তী সহ আরও অনেকে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অসীমা ভড়, দীপান্বিত বসু সরকার, ব্রততী ভট্টাচার্য এবং আরও অনেক গুণীজন আবৃত্তি পরিবেশন করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। অদিতি চক্রবর্তী ও রীনা রায়ের ‘ধানসিঁড়ি ভারত’ সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করে। এছাড়াও আরও অনেক গুণী শিল্পী তাদের উপস্থাপনা দিয়ে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন। সুনন্দা হালদার, মল্লিকা রায় ও সুব্রত হাইত সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন এবং মিলন খামারিয়া অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন।