অনলাইনে সঙ্গিনী খুঁজতে গিয়ে লক্ষাধিক টাকা খোয়ালেন বেঙ্গালুরুর যুবক, প্রতারণার শিকার

অনলাইনে এক রাতের জন্য সঙ্গিনী খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বেঙ্গালুরুর এক যুবক। এই ফাঁদে পা দিয়ে মাত্র এক রাতেই লক্ষাধিক টাকা খুইয়েছেন ২৯ বছর বয়সী ওই বেসরকারি সংস্থার কর্মী। বেঙ্গালুরুর ইলেক্ট্রিক সিটির নীলাদ্রি নগরের বাসিন্দা ওই যুবক কিছুদিন আগে রাতে গুগল সার্চে ‘এসকর্ট সার্ভিস’ খুঁজতে গিয়ে একটি এজেন্সির খোঁজ পান। সেই এজেন্সির ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার পরই শুরু হয় প্রতারণা।
প্রথমে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ফোন করে যুবকের পছন্দ অনুযায়ী এক তরুণীর ব্যাপারে তথ্য দেয় এবং তাঁকে ৪০০ টাকা জমা দিতে বলে। টাকা পাঠানোর কিছুক্ষণ পরেই ওই তরুণী বাড়িতে পৌঁছে যাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপরই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে যুবকের কাছে ফোন আসতে শুরু করে এবং নানা অজুহাতে টাকা চাওয়া হয়। কখনও সিকিউরিটি ডিপোজিট, কখনও সার্ভিস কোড অ্যাক্টিভেশনের নামে টাকা দাবি করা হয়। দু’বার ৬,৯০০ টাকা এবং দু’বার ৯৫০০ টাকা করে পেমেন্ট করতে বলা হয়, যা ফেরতযোগ্য বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে সন্দেহ হওয়ায় যুবক বুকিং বাতিল করতে চাইলে তাঁর কাছে ক্যান্সেলেশন চার্জ হিসেবে ৭৫৯০ টাকা চাওয়া হয়। সেই টাকা পাঠানোর পরও জিএসটি বাবদ একবার ৭৯৯০ এবং একবার ১৩,৩৪৬ টাকা পাঠাতে বলা হয়। এই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রতারকরা তাদের আসল রূপ ধারণ করে এবং পুলিশে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি সামাজিকভাবে অপদস্থ করার হুমকি দেয়। ভয়ে যুবক এরপরও কয়েক দফায় টাকা পাঠান।
কিন্তু এর পরেও হুমকি ফোন এবং মেসেজ বন্ধ না হওয়ায় গত ২৯ এপ্রিল যুবকটি পুলিশের দ্বারস্থ হন। অবাক করার বিষয় হলো, তিনি যখন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন, তখনও প্রতারকরা তাঁকে ফোন করে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। যুবক পুলিশকে জানিয়েছেন, মোট পাঁচটি নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করা হতো।
ওই যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি এবং খোয়া যাওয়া টাকাও উদ্ধার হয়নি।