শতবর্ষে হাওড়া বিভাগ, নতুন রূপে সম্মানিত ঐতিহ্যবাহী নেতাজি এক্সপ্রেস

পূর্ব রেলের হাওড়া বিভাগ এবার তাদের শতবর্ষ পূর্ণ করছে, আর এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে সম্মানিত হচ্ছে এক জীবন্ত ইতিহাস – ঐতিহাসিক কালকা মেল, যা বর্তমানে পরিচিত নেতাজি এক্সপ্রেস নামে। দীর্ঘ ১৫৯ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত এই ট্রেনটি।
রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৮৬৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেল হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল কলকাতা থেকে দিল্লির উদ্দেশে। পরবর্তীকালে ১৮৯১ সালে এই পরিষেবা কালকা পর্যন্ত প্রসারিত হয়। ভারতীয় রেলওয়ের ক্রমবিকাশের সাথে সাথে কালকা মেলও কালের সাক্ষী হয়ে নিজেকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে, এবং এটিই ভারতের রেল ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকাল ধরে চলা ট্রেন হিসেবে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
এই ট্রেনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৪১ সালে ব্রিটিশদের কঠোর নজরদারি এড়িয়ে তিনি গোমোহ থেকে বারারি কোক প্লান্ট পর্যন্ত এই ট্রেনেই সফর করেছিলেন, যা ছিল তাঁর ঐতিহাসিক ‘মহানিষ্ক্রমণ’-এর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নেতাজির সেই বীরোচিত যাত্রাকে শ্রদ্ধা জানাতে এবং স্মরণীয় করে রাখতে, ২০২১ সালে তাঁর ১২৪তম জন্মবার্ষিকীতে কালকা মেল ট্রেনটির নতুন নামকরণ করা হয় নেতাজি এক্সপ্রেস। শুধু ইতিহাস নয়, বাঙালির প্রিয় সাহিত্যিক সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বাক্স রহস্য’-এও এই ট্রেনের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা বাঙালি সংস্কৃতিতে এর গভীর প্রভাবেরই পরিচায়ক।
হাওড়া বিভাগের একশো বছরের এই বিশেষ পূর্তি অনুষ্ঠানে নেতাজি এক্সপ্রেস কেবল একটি ট্রেন নয়, এটি স্বীকৃত হয়েছে এক চলমান ঐতিহ্য হিসেবে। এটি একইসঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছে অতীতের স্মৃতি এবং বর্তমানের গৌরবকে। ভারতীয় রেলওয়ের ইতিহাসের এক অমূল্য সম্পদ এই ট্রেনটি, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও তাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতি সচেতন করে তুলবে। নেতাজি এক্সপ্রেসের এই দীর্ঘ পথচলা কেবল শহরগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে না, বরং এটি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মাঝে এক মজবুত সেতুবন্ধন রচনা করে চলেছে।
একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে পূর্ব রেলের একজন আধিকারিক বলেন, “আমরা বহু পথ অতিক্রম করে আজ এই জায়গায় এসে পৌঁছেছি এবং আরও এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়েছি। গত একশো বছরের এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যেই আমাদের এই বিশেষ উদ্যোগ।”