ওয়াই-ফাইয়ের গতি দ্বিগুণ বাড়বে যে কৌশলে, শিখেনিন সহজ কিছু পদ্ধতি

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ছাড়া জীবন প্রায় অচল, আর বেশিরভাগ বাড়িতেই এখন ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু প্রায়শই অভিযোগ থাকে যে ওয়াই-ফাইয়ের গতি যথেষ্ট থাকে না, বিশেষ করে দিনের ব্যস্ত সময়ে বা অনলাইনে মুভি, নাটক দেখার সময়। ধীর গতির ইন্টারনেট সংযোগে অনেক সময় মেজাজ একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়।

তবে কয়েকটি সহজ কৌশল অবলম্বন করলেই আপনি আপনার বাড়ির ওয়াই-ফাইয়ের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারেন এবং একটি নির্বিঘ্ন ইন্টারনেট অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। রিডার্স ডাইজেস্ট সূত্রে পাওয়া এই টিপসগুলো আপনার কাজে আসতে পারে:

ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়াতে যা করতে পারেন:

  • রাউটারের সঠিক স্থান নির্বাচন: আপনার ওয়াই-ফাই রাউটারটিকে বাড়ির এমন একটি জায়গায় রাখুন যা মোটামুটি কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এতে রাউটারের নেটওয়ার্ক বা সিগন্যাল আপনার বাড়ির প্রতিটি কোণে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেয়াল বা আসবাবপত্রের বাধা যত কম হবে, সিগন্যাল তত শক্তিশালী হবে।

  • সিঙ্গল নয়, ডুয়াল ব্যান্ড রাউটার ব্যবহার করুন: পুরনো প্রযুক্তির সিঙ্গল ব্যান্ডের রাউটারের বদলে আধুনিক ডুয়াল ব্যান্ডের রাউটার ব্যবহার করা এখন সময়ের দাবি।

  • ৫ গিগাহার্ৎজ ব্যান্ডের সুবিধা: এই ডুয়াল ব্যান্ড রাউটারের সাহায্যে আপনি ২.৪ গিগাহার্ৎজের পাশাপাশি ৫ গিগাহার্ৎজের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডও ব্যবহার করতে পারবেন। ৫ গিগাহার্ৎজ ব্যান্ডে সাধারণত ইন্টারফেয়ারেন্স বা সিগন্যালের ভিড় কম থাকে এবং এটি অনেক বেশি গতি প্রদান করতে সক্ষম। এই ব্যান্ডটি ব্যবহার করলেই আপনার ইন্টারনেটের স্পিড অনেকটাই বেড়ে যাবে।

  • বড় বাড়ির জন্য ম্যাস ওয়াই-ফাই বা এক্সটেনশন: আপনার বাড়ি যদি অনেক বড় হয় এবং একটি রাউটারের সিগন্যাল সব ঘরে সমানভাবে না পৌঁছায়, তবে ম্যাস ওয়াই-ফাই সিস্টেম অথবা ভালো মানের ওয়াই-ফাই এক্সটেন্ডার প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন। এটি পুরো বাড়িতেই ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড ও কভারেজ সমানভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

  • নিয়মিত রাউটার রিবুট করুন: প্রতি তিন থেকে চার দিন অন্তর আপনার ওয়াই-ফাই রাউটারটি পাঁচ থেকে দশ মিনিটের জন্য বন্ধ করে আবার চালু করুন। এটি রাউটারের পারফরম্যান্স বা কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এবং ছোটখাটো সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর।

  • রাউটারের পরিচ্ছন্নতা জরুরি: রাউটারে ধুলো-ময়লা জমতে দেবেন না। নিয়মিত আলতো করে এটি পরিষ্কার করুন। জমে থাকা ময়লা রাউটারের কুলিং এবং পারফরম্যান্সকে ব্যাহত করতে পারে, যা ইন্টারনেটের গতি কমার অন্যতম কারণ হতে পারে।

  • ডব্লিউপিএস বাটন (অতিরিক্ত সুবিধা): এটি সরাসরি স্পিড বাড়ানোর টিপস না হলেও জেনে রাখা ভালো যে অনেক রাউটারের পিছনে থাকা ডব্লিউপিএস (WPS) বাটনের মাধ্যমে আপনি কোনো পাসওয়ার্ড টাইপ না করেই গেস্ট ডিভাইসে দ্রুত ওয়াই-ফাই সংযোগ দিতে পারেন।

এই সহজ কৌশলগুলো অবলম্বন করে আপনি আপনার বাড়ির ওয়াই-ফাইয়ের গতি এবং কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারবেন এবং ধীর গতির সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পেতে পারেন।