সহপাঠীদের ডাকাডাকিতেও খুলল না দরজা ! খড়গপুর IIT ক্যাম্পাসে আবার শোকের ছায়া, পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু

দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খড়গপুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (IIT) আবার এক ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।
বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ আসিফ কামার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের প্রতিভাবান ছাত্র ছিলেন। গতকাল রাতে তাঁর হস্টেলের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, সহপাঠীরা অনেক ডাকাডাকি করেও আসিফের কোনও সাড়া না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। তাঁরা হস্টেল কর্তৃপক্ষকে জানালে, পুলিশ এসে দরজা ভেঙে আসিফের নিথর দেহ উদ্ধার করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার ঠিক ১৫ দিন আগেই, এপ্রিল মাসে, ২২ বছর বয়সী অনিকেত ওয়ালকর নামে আরেক ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। অনিকেত মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং সমুদ্রবিদ্যা ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি জগদীশচন্দ্র বোস হস্টেলে থাকতেন।
এই পরপর দুটি ঘটনা ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ফৈজান আহমেদ নামে আরেক ছাত্রের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশাকে আরও ঘনীভূত করেছে। তৃতীয় বর্ষের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র ফৈজানের পচাগলা দেহ তাঁর হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও, তাঁর পরিবার খুনের অভিযোগ তোলে এবং কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও এই ঘটনায় CBI তদন্তের দাবি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন।
পরবর্তীকালে, আদালতের নির্দেশে ফৈজানের দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ডঃ অজয় কুমার গুপ্তের দেওয়া রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। তিনি জানান, ফৈজানকে খুন করা হয়েছিল এবং তাঁর দেহে আঘাতের চিহ্ন (এক কানের নীচে গুলির মতো ক্ষত এবং গলায় কোপানোর চিহ্ন) পাওয়া গেছে। এই রিপোর্ট ফৈজানের মৃত্যুকে ঘিরে থাকা রহস্য আরও জটিল করে তোলে।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর এই ছাত্রমৃত্যুর ঘটনাগুলি খড়গপুর IIT ক্যাম্পাসে স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং ছাত্রদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।