দিন কয়েক আগেই বদলেছে পুলিশ সুপার, এবার সামশেরগঞ্জের ওসি-এসআই সাসপেন্ড!

ওয়াকফ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের একাধিক প্রান্তে সম্প্রতি যে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রশাসনিক স্তরে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো। ওই অশান্তির সময়ে দায়িত্বে থাকা সামশেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) শিবপ্রসাদ ঘোষ এবং সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার জালালুদ্দিন আহমেদকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে ইমেলের মাধ্যমে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াকফ আন্দোলনের প্রতিবাদে হিংসার আগুন জ্বলেছিল। সেই অশান্তি সামাল দেওয়ার দায়িত্বে সামশেরগঞ্জ থানার দুই আধিকারিক শিবপ্রসাদ ঘোষ এবং জালালুদ্দিন আহমেদ ছিলেন। এবার এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই তাদের সাসপেন্ড করা হলো।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক অশান্তির পর মুর্শিদাবাদ পুলিশে কয়েকটি রদবদলও আনা হয়েছিল। কয়েকদিন আগেই মুর্শিদাবাদের এসপি সূর্য প্রতাপ যাদবকে সরানো হয়েছে এবং জঙ্গিপুরের এসপি আনন্দ রায়কেও বদলি করা হয়েছে। তাদের জায়গায় এসেছেন নতুন আধিকারিকরা।

সমগ্র মুর্শিদাবাদকাণ্ডে শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিল প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। অশান্তি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর নির্দেশ দেয় এবং আধা সেনার পাশাপাশি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF)-ও মুর্শিদাবাদে নজরদারি বাড়ায়।

ওয়াকফ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া হিংসা, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং এসপিদের বদলির আবহেই সামশেরগঞ্জ থানার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, রাজ্য প্রশাসন এই ঘটনাকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে এবং অশান্তি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়বদ্ধতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।