পহেলগাঁও হামলার পর রেলে হাই অ্যালার্ট! যাত্রীদের ব্যাগ খুলে তল্লাশি, স্টেশন চত্বরে নিষিদ্ধ গুটকা-বিড়ি

কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর দেশজুড়ে রেলওয়ে পরিকাঠামোতে নিরাপত্তা এবং সতর্কতা তুঙ্গে তোলা হয়েছে। রেল যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে ভারতীয় রেল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে আরপিএফ (RPF) এবং জিআরপি (GRP)-এর তরফে দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনে এবং স্টেশনগুলিতে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে ট্রেনে মাদকদ্রব্য বহন বন্ধ করার লক্ষ্যেও একটি কঠোর অভিযান শুরু হয়েছে।
এই বিশেষ তল্লাশি অভিযানে রেল পুলিশ যাত্রীদের ব্যাগ-সহ বিভিন্ন ধরনের সুটকেস এবং ট্রেনের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি ও তল্লাশি চালাচ্ছে। কোনও যাত্রী যাতে ট্রেনে মাদকদ্রব্য নিয়ে যাতায়াত না করে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছে রেল পুলিশ। এছাড়াও, স্টেশনের ভেতরে যে সমস্ত যাত্রীদের গুটকা, বিড়ি বা সিগারেট খেতে দেখা যাচ্ছে, তাদেরকেও জরিমানা করছে রেল পুলিশ। এটিও মাদক বিরোধী অভিযানের একটি অংশ।
এই বর্ধিত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং মাদক বিরোধী অভিযানের চিত্র গত শনিবার বিকেলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বুনিয়াদপুর রেল স্টেশনে ধরা পড়ে। এদিন ফারাক্কা এক্সপ্রেস-সহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রীদের ব্যাগপত্র এবং অন্যান্য জিনিসপত্রে বিস্তারিত তল্লাশি চালানো হয়। রেল পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রী সুরক্ষা এবং মাদকদ্রব্য বহন রোধে আগামিদিনেও এই ধরনের তল্লাশি অভিযান চলবে।
বুনিয়াদপুর রেল স্টেশনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে আরপিএফ ইনস্পেক্টর কৃষ্ণেন্দু দাস রেলের সুরক্ষা বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর যাত্রী সুরক্ষায় আমরা আরও অনেক বেশি সতর্ক রয়েছি। যে কোনও উপায়ে যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে আরপিএফ এবং জিআরপি যৌথভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।”
মাদকদ্রব্য বহন বন্ধ করার লক্ষ্যে তাদের অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, “যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ট্রেনে মাদকদ্রব্য বহন বন্ধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনগুলোতে যেন কেউ মাদকদ্রব্য নিয়ে যাতায়াত না করে, সেই জন্য বিভিন্ন স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের ব্যাগ-সহ ট্রেনের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করা হচ্ছে।” তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে স্টেশন চত্বরে কোনও মাদকদ্রব্য বা নেশাজাত দ্রব্য বহন বা সেবন করতে দেওয়া হবে না।
পহেলগাঁও হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং রেল যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করাই রেল পুলিশ এবং আরপিএফের এই যৌথ অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য। এই পদক্ষেপগুলি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।