ফেসবুক কি সত্যি টাকা কমিয়ে দিয়েছে? অবশেষে মুখ খুললেন স্যান্ডি সাহা!

ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশন এখন অনেকেরই পেশা। কিন্তু সম্প্রতি এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে রোজগার নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে ফেসবুক থেকে আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন বহু কনটেন্ট ক্রিয়েটর। বাংলা কনটেন্ট জগতে পরিচিত মুখ স্যান্ডি সাহাও এই কঠিন বাস্তবের কথা তুলে ধরেছেন।

২০১৭ সাল থেকে কনটেন্ট তৈরি করছেন স্যান্ডি। শুরুর দিকে কোনও আয় ছিল না। শুধুমাত্র ভালোবাসার জায়গা থেকেই কাজ করতেন। পরবর্তীকালে মানিটাইজেশন চালু হলেও, সম্প্রতি ফেসবুক তাদের পেমেন্টের পরিমাণ প্রায় দশভাগের একভাগে নামিয়ে এনেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্যান্ডির হিসাব অনুযায়ী, আগে যেখানে ১০০ টাকা আয় করতে ১০টি কনটেন্ট লাগত, এখন সেখানে ১০০টি কনটেন্ট তৈরি করেও একই পরিমাণ আয় করা কঠিন।

এই বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট প্রতিদিন তৈরি করা অত্যন্ত শ্রমসাধ্য এবং এর জন্য একটি টিম প্রয়োজন হয়। আয়ের পরিমাণ কমে যাওয়ায় টিমের খরচ সামলে কনটেন্ট তৈরি করা অনেক ছোট ও মাঝারি সারির ক্রিয়েটরের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদিও কিরণ দত্তের মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ক্রিয়েটরদের ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট থেকে বড় আয় হয়, কিন্তু সকলের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়।

সম্প্রতি একটি বাংলা ধারাবাহিকে অভিনয় করছিলেন স্যান্ডি। কিন্তু পরিচালক ভিক্টো মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় এবং সেই সময় পার্টিতে স্যান্ডি উপস্থিত থাকায় তাঁকে ধারাবাহিকটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা তাঁর কাজ এবং আয়ের উপর আরও প্রভাব ফেলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্যান্ডি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে যাঁরা পেশা হিসাবে নিতে চাইছেন, তাঁদের অন্য আয়ের উৎস নিয়েও ভাবতে হবে। কারণ এই ক্ষেত্রে রোজগার অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যে কোনও সময় পেজের সমস্যা বা প্ল্যাটফর্মের নীতির পরিবর্তনের কারণে উপার্জন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। স্যান্ডি নিজেও জানিয়েছেন যে তাঁর পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে এবং শুধুমাত্র কনটেন্ট ক্রিয়েশনের আয়ে তাঁর সংসার চলে না। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।