৭ মাস ধরে দেওয়া হচ্ছেনা বেতন, বিদেশি শ্রমিকদের ফেরত পাঠাচ্ছে কাতার

মজুরির দাবিতে প্রতিবাদ করায় অভিবাসী শ্রমিকদের ফেরত পাঠাতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট আল বান্দারি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের দোহা অফিসের বাইরে অন্তুত ৬০ জন শ্রমিক সমাবেশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে; তবে সে সংখ্যাটি ঠিক কত, তা নিশ্চিভাবে জানা যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শ্রমিকদের অনেককেই ৭ মাস ধরে বেতন দেওয়া হয়নি।

কাতার সরকার বলছে, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা দেশের ‘নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন’ করেছে।

লন্ডনভিত্তিক শ্রম অধিকার প্রচার সংস্থা ইকুইডেমের প্রধান মুস্তফা কাদরি বলেন, “আমরা বিক্ষোভে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলেছি। এরমধ্যে একজন নেপালি নাগরিক ছিলেন, তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বিক্ষোভে জড়িত নেপাল, বাংলাদেশ, ভারত, মিশর এবং ফিলিপাইনের শ্রমিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

২০১০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কাতারে বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো নির্মাণ বেড়ে যায়। আর এসব করতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী এই দেশটির অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে করা আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

আল বান্দারি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ মূলত একটি নির্মাণ এবং প্রকৌশল কোম্পানি।

তবে শ্রমিকরা বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে জড়িত ছিলেন কিনা তা জানা যায়নি এবং আয়োজক কমিটিও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে, বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কাতার সরকার নিশ্চিত করেছে, দোহার বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন কর্মীকে জননিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

সেইসঙ্গে আরও জানানো হয়, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে।

শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করায় আল বান্দরি গ্রুপের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছে কাতার সরকার। এমনকি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।

সূত্র: বিবিসি