সীমান্তে ফের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন পাকিস্তানের, গুলিবৃষ্টির যোগ্য জবাব ভারতীয় সেনার

সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন যেন অভ্যাসে পরিণত করেছে পাকিস্তান। কোনও প্ররোচনা ছাড়াই ফের গুলি ছুড়ল পড়শি দেশের সেনাবাহিনী, যা গত কয়েকদিনে এই নিয়ে নবম ঘটনা। শুক্রবার রাতে জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কুপওয়ারা, উরি এবং আখনুর সেক্টরে পাকিস্তানের দিক থেকে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। পাকিস্তানি সেনা ভারি গুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপ শুরু করলে পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাও।
সাম্প্রতিক পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর থেকেই পাকিস্তান লাগাতার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে। এই অসংলগ্ন আচরণের জন্য মাত্র দিন তিনেক আগেই ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই ফের চুক্তি লঙ্ঘন করে গোলাগুলি চালিয়েছে পাক সেনা। ভারতীয় বাহিনী অবশ্য উপযুক্ত জবাব দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
গত মঙ্গলবার দুই দেশের মিলিটারি অপারেশনের জেনারেল (DGMO) হটলাইনে কথা বলেন। ভারতের DGMO পাকিস্তানের লাগাতার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে ভারত সিন্ধু জল চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই সীমান্ত পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। সেই রাত থেকেই পাকিস্তানি সেনা বিনা প্ররোচনায় নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বিভিন্ন এলাকায় গুলি চালাতে শুরু করে। ওই একই রাতে পাকিস্তান আকস্মিকভাবে ভারতীয় বিমানের জন্য তাদের আকাশপথ বন্ধ করে দেয় এবং ওয়াঘা সীমান্তও বন্ধ ঘোষণা করে। ভারতের সঙ্গে সমস্ত ধরনের বাণিজ্যও বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। সিন্ধু জল চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে তারা ‘যুদ্ধ ঘোষণার সমান’ বলে দাবি করেছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর যুদ্ধবিরতি মেনে চলার একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষ করে পহেলগাঁও হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে।
ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় ৩ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সীমান্ত (IB), নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) এবং অ্যাকচুয়াল গ্রাউন্ড পজিশন লাইন (AGPL) – এই তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত। জম্মুর আখনুর থেকে গুজরাট পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত, জম্মু ও লে-র কিছু অংশ জুড়ে ৭৪০ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং সিয়াচেনের ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ AGPL রয়েছে।
নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানের বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।