“পঞ্চম স্থানে ৩, মেধা তালিকায় ৬ জন”-মাধ্যমিকে চমকপ্রদ ফল রাজ্যের হুগলি জেলার

গত বছর মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় হুগলি জেলা থেকে জায়গা করে নিয়েছিল দু’জন ছাত্র। আর চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ছয়। একধাপ নয়, একেবারে অনেকটা এগিয়ে গেল হুগলি জেলা। শুক্রবার প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার মেধা তালিকার প্রথম ১০টি স্থানের মধ্যে হুগলির মোট ছয় জন পড়ুয়া জায়গা করে নিয়েছে, যা গতবারের তুলনায় চারগুণ বেশি।

এর মধ্যে আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান একাই দখল করেছে হুগলি জেলার তিন জন কৃতি ছাত্রছাত্রী। ৬৯১ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে গৌরহাটি হরদাস ইনস্টিটিউশনের সিঞ্চন নন্দী, কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন মাল্টিপারপাস স্কুলের চৌধুরী মহম্মদ আসিফ এবং ইটাচুনা শ্রী নারায়ণ ইনস্টিটিউশনের দীপ্তজিৎ ঘোষ। এই তিনজনই হুগলি জেলার বাসিন্দা এবং তাদের সাফল্যে জেলার মুখ উজ্জ্বল হয়েছে।

হুগলির মাখালডি গ্রামে বাড়ি দীপ্তজিৎ ঘোষের। সে ইটাচুনা শ্রী নারায়ণ ইনস্টিটিউশনের ছাত্র এবং স্কুলে বরাবরই মেধাবী হিসেবে পরিচিত। নিজের রেজাল্ট নিয়ে দীপ্তজিৎ বলে, “আমি আশা করেছিলাম এক থেকে দশের মধ্যে থাকব। তবে পঞ্চম হয়েছি, তাতে আমি অত্যন্ত খুশি।” যখন মেধা তালিকায় তার নাম প্রকাশ হয়, আনন্দের আতিশয্যে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলে দীপ্তজিৎ। তার ইচ্ছে ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার। সেই লক্ষ্যেই এখন উচ্চমাধ্যমিকের জন্য পড়াশোনা করছে সে।

অন্যদিকে, আরামবাগের বাসিন্দা সিঞ্চন নন্দী গৌরবহাটি হরদাস ইনস্টিটিউশনের ছাত্র। ছোট থেকেই স্কুলের প্রতিটি পরীক্ষায় ফার্স্ট বয় হিসেবে পরিচিত সে। সিঞ্চনের কথায়, “মাধ্যমিকে একটা ভালো ফল করব এটা আশা ছিল। তবে এতটা ভালো হবে সেটা ভাবতে পারিনি।” স্কুলের শিক্ষকদের সাহায্য ছাড়াও তার ৯ জন গৃহশিক্ষক ছিলেন। পড়াশোনার ক্ষেত্রে টেক্সট বই পড়ার ব্যাপারেই বেশি আগ্রহী সিঞ্চন। তার সাফল্যে পরিবারের লোকজন অত্যন্ত গর্বিত।

আরামবাগ মহকুমার কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন মাল্টিপারপাস স্কুলের ছাত্র চৌধুরী মহম্মদ আসিফও ৬৯১ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থানাধিকারী। শেওড়া পঞ্চায়েতের আমডোবা গ্রামের বাসিন্দা আসিফ স্কুলের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতো। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও বেশ আগ্রহ রয়েছে তার। জানা গেছে, নিয়মিত সকালে ৪ ঘণ্টা ও রাতে ৪ ঘণ্টা করে পড়াশোনা করত সে। আসিফের এই রেজাল্টে তার গ্রামে খুশির হাওয়া বইছে।

এছাড়াও হুগলি জেলা থেকে মেধা তালিকায় নবম ও দশম স্থান অধিকার করেছে আরও দুই কৃতি। হুগলির কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন মাল্টিপারপাস স্কুলের ছাত্র অয়ন নাগ ৬৮৭ নম্বর পেয়ে নবম স্থানে রয়েছে। হুগলির ছিলাডাঙি রবীন্দ্র বিদ্যাবীথির ছাত্রী অয়ন্তিকা সামন্ত ৬৮৬ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছে।

গত বছরের তুলনায় মেধা তালিকায় চারগুণ বেশি ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি হুগলি জেলার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি এবং ছাত্রছাত্রীদের কঠোর পরিশ্রমকেই তুলে ধরেছে। এই সাফল্যে গোটা জেলা জুড়ে খুশির আবহ এবং কৃতীদের প্রতি রইল উষ্ণ অভিনন্দন।