দিঘা মন্দিরে গিয়ে BJP-র অন্দরে প্রবল বিতর্কে দিলীপ, পাল্টা জবাব দিয়ে বললেন যা বললেন?

দিঘায় নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সস্ত্রীক হাজির ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর এই পদক্ষেপ দলের অন্দরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সমালোচনার ঝড় উঠেছে, এমনকি দলীয় কর্মীদের একাংশের বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। এই প্রসঙ্গে শুক্রবার নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে দিলীপ ঘোষ তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে সমালোচকদের কড়া জবাব দেন।

দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দিলীপ ঘোষ লড়াই করেছিল, লড়াই করবে। দিলীপ ঘোষ বিজেপিটা বোঝে।” তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যারা এই নিয়ে এত বিশ্লেষণ করছেন, তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা এমনই। এদের অনেকেই এক-দু’লাখ টাকার জন্য আমার পিছনে ঘুরঘুর করত। কেউ আমার বিশেষজ্ঞ, কেউ উপদেষ্টা হয়ে গিয়েছিল। এখন তারা আমাকে উপদেশ দিচ্ছে। এরা সবাই অন্নদাস। আর দিলীপ ঘোষ বুক ফুলিয়ে ঘুরবে, কারণ সে কারও তোষামোদ করে না।”

তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “যারা টিভিতে এই কথা শুনছেন, তাদের চ্যালেঞ্জ করছি, পারলে প্রমাণ দিন দিলীপ ঘোষ কখনও কোনও তৃণমূল নেতাকে ফোন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী তো দূরের কথা। কেউ বলতে পারবে না আমি গোপনে কোনও অ্যাপের মাধ্যমে কথা বলেছি বা রাতের বেলা কালীঘাটের বাড়িতে গেছি।”

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “আমি বলছি, জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে মাথা নত করলেই কি কেউ তৃণমূল হয়ে যাবে? মানুষকে কি আপনারা এত বোকা ভাবেন? সিপিএম একসময় বলত, ‘ওই বিবেকানন্দ আর এই বিবেকানন্দ’, ওটা নাকি আরএসএস-এর বিবেকানন্দ। তৃণমূল বলত, ‘রামায়ণের রাম আলাদা, আর বিজেপির রাম আলাদা’। আমরা এটা মনে করি না। পুরীর জগন্নাথ আর দিঘার জগন্নাথ একই। যার যেখানে ইচ্ছা, সে সেখানে প্রণাম করবে। সবাই বলে বিজেপি মন্দির রাজনীতি করে, ঠিক করে। কিন্তু মন্দিরে মন্দিরে ভেদাভেদ করে না।”

রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে দিঘার জগন্নাথধামে দিলীপ ঘোষের সস্ত্রীক উপস্থিতি বিজেপির অন্দরে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-সহ একাধিক নেতা প্রকাশ্যে দিলীপ ঘোষের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।