“প্রাক্তনের দেওয়া উপহারেই বাড়ে কষ্ট”-অভিনব সমাধান দিচ্ছে টিন্ডার, জেনেনিন কী?

জীবনে একবারও প্রেমে পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে সব প্রেমকাহিনিই তো আর সুখের হয় না, অনেক সম্পর্কেই আসে বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদের পর কষ্ট কমাতে অনেকে প্রাক্তনকে সোশ্যাল মিডিয়া বা ফোন থেকে ব্লক করে দেন, প্রিয় গানের প্লে-লিস্টও বদলে ফেলেন। কিন্তু একটা জিনিস প্রায়শই রয়ে যায় যা বারবার মনে করিয়ে দেয় পুরনো সম্পর্কের স্মৃতি – তা হলো প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার দেওয়া বিভিন্ন উপহার, যা ঘরের কোণে পড়ে থেকেও মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে।
ঠিক এই সমস্যারই এক অত্যন্ত অভিনব এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপ টিন্ডার (Tinder)।
টিন্ডার তাদের নতুন এবং ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ ধরনের ট্রাক রাস্তায় নামিয়েছে। এই ট্রাকটির একপাশে বড় করে লেখা আছে, ‘Ex-press Disposal Truck’ (প্রাক্তনের জিনিস ফেলার ট্রাক)। আর অন্যপাশে লেখা একটি সতর্কবাণী: ‘Caution: Emotional Baggage Inside!’ (সতর্কতা: মানসিক বোঝা ভেতরে রয়েছে!)।
এই ট্রাকে আপনি ফেলে দিতে পারেন প্রাক্তনের দেওয়া সেই সমস্ত স্মৃতিবাহী উপহার – হতে পারে পুরনো চিরুনি, প্রেমের চিঠি, প্রিয় টেডি বিয়ার, পোশাক বা অন্য যেকোনো জিনিস। যেগুলি এখন কেবল একগুচ্ছ কষ্টের স্মৃতি বহন করে।
বর্তমানে এই বিশেষ ট্রাকটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো সহ বড় বড় শহরগুলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শহরের বাসিন্দারা এই উদ্যোগে দারুণ আগ্রহ নিয়ে অংশ নিচ্ছেন। বহু মানুষ ইতিমধ্যেই প্রাক্তনের স্মৃতিতে ভরা উপহারগুলি তুলে দিয়েছেন এই ‘এক্স-প্রেস ডিসপোজাল ট্রাকে’।
টিন্ডারের এই অভিনব উদ্যোগটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা এবং প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই ভাবনাকে প্রশংসা করেছেন। কেউ লিখেছেন, “আহা! এই ট্রাক যদি আমার শহরেও আসত!” আবার কেউ কেউ মজা করে বলেছেন, “আমার প্রাক্তন তো কিছুই দেয়নি, তাই ফেলার মতো কিছুই নেই!”
তবে এই উদ্যোগ ঘিরে একটি প্রশ্নও উঠেছে – উপহার ফেলে দিলেই কি সত্যিই পুরনো সম্পর্ক এবং তার স্মৃতি থেকে পুরোপুরি মুক্তি মেলে? কেউ কেউ মনে করছেন, এটি অন্তত মানসিক ভার লাঘব করতে সাহায্য করে। আবার অনেকে বলছেন, অনুভূতির জায়গা থেকে স্মৃতির টান সহজে কেটে যায় না, বিশেষ করে যারা সংবেদনশীল।
মনোবিদদের মতে, বিচ্ছেদের পর সম্পর্ক বা তার স্মৃতিবাহী বস্তু থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা অনেক সময় মানসিকভাবে সুস্থ হতে সাহায্য করে। টিন্ডারের এই ধরনের উদ্যোগ অনেকের মধ্যেই এক ধরনের ‘ইমোশনাল ক্লোজার’ বা মানসিক সমাপ্তি এনে দিতে পারে। এটা ঠিক যে, স্মৃতি হয়তো একদিনে বা সহজে মুছে ফেলা যায় না, কিন্তু এমন একটি ‘ফিজিক্যাল ক্লিন-আপ’ বা শারীরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তির একটা নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। টিন্ডারের এই অভিনব প্রয়াস মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।