বিশেষ: চন্দ্রমার খুবই প্রিয় এই ৩ রাশি, জাতক-জাতিকাদের জীবনে থাকে অর্থ-সম্মান ও শান্তি

বৈদিক জ্যোতিষে চন্দ্রের বিশেষ কৃপা: বৃষ, কর্কট ও কন্যা— এই ৩ রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবন ভরে ওঠে সুখ-সমৃদ্ধিতে

কলকাতা: বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী চন্দ্রমা হলেন আমাদের মন এবং মায়ের কারক গ্রহ। কোষ্ঠীতে চন্দ্রের অবস্থান আমাদের মানসিক স্থিতিশীলতা, আবেগ এবং সামগ্রিক ভাগ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। যদি চন্দ্র দুর্বল অবস্থানে থাকে, তাহলে তা মানসিক অশান্তি এবং সমস্যা ডেকে আনতে পারে। তবে জ্যোতিষ বলছে, কিছু নির্দিষ্ট রাশি রয়েছে যাদের উপর চন্দ্রদেবের বিশেষ কৃপাদৃষ্টি সবসময় বজায় থাকে। এই কারণে এই রাশির জাতক-জাতিকারা জীবনে মানসিক শান্তি, সুখ এবং সমৃদ্ধি লাভ করেন। আসুন জেনে নিই বৈদিক জ্যোতিষ অনুসারে চন্দ্রমার সেই ৩টি প্রিয় রাশি কারা এবং কেন তাঁরা এই বিশেষ আশীর্বাদ প্রাপ্ত হন।

জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, প্রধানত তিনটি রাশি চন্দ্রমার অত্যন্ত প্রিয় এবং এদের উপর চন্দ্রের বিশেষ প্রভাব দেখা যায়। এরা হলো বৃষ রাশি (Taurus), কর্কট রাশি (Cancer) এবং কন্যা রাশি (Virgo)। এই রাশিগুলির উপর চন্দ্রের কৃপা থাকার নেপথ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতিষীয় কারণ।

  • বৃষ রাশি: বৃষ রাশিতে চন্দ্রমা ‘উচ্চস্থ’ হন, অর্থাৎ এই রাশিতে চন্দ্র তাঁর সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে থাকেন। এই কারণে বৃষ রাশির জাতক-জাতিকাদের উপর চন্দ্রের আশীর্বাদ খুব বেশি থাকে।
  • কর্কট রাশি: কর্কট হলো স্বয়ং চন্দ্রমার নিজস্ব রাশি বা স্বগৃহ। নিজের রাশিতে থাকার কারণে চন্দ্র এখানে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এই রাশির জাতকদের উপর তাঁর বিশেষ কৃপা থাকে।
  • কন্যা রাশি: কন্যা রাশি হলো বুধ গ্রহের রাশি। বৈদিক জ্যোতিষে বুধ এবং চন্দ্র পরস্পর মিত্র গ্রহ। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে চন্দ্রমা কন্যা রাশির উপরও তাঁর কৃপাদৃষ্টি বজায় রাখেন।

চন্দ্রের কৃপা প্রাপ্ত রাশির জাতকদের জীবনে এর প্রভাব ও উপকারিতা:

বৃষ রাশি: বৃষ রাশিতে চন্দ্রমার শুভ প্রভাবে এই রাশির জাতক-জাতিকাদের মন স্বভাবতই শান্ত থাকে। এঁরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে খুব পারদর্শী হন। চন্দ্রের কৃপায় এদের জীবন সাধারণত সুখময় হয় এবং জীবনে সুখ, সম্পদ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। চন্দ্র এঁদের ভাগ্যে উন্নতি নিয়ে আসেন।

কর্কট রাশি: কর্কট চন্দ্রমার নিজস্ব রাশি হওয়ায় এঁরা চন্দ্রের বিশেষ কৃপা লাভ করেন। চন্দ্রমার মহাদশা বা অন্তর্দশার সময় এই রাশির জাতক-জাতিকারা তাঁদের কর্মজীবনে বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সফলতার শিখরে পৌঁছাতে পারেন। এদের জীবনে জাগতিক সুখ-সুবিধা ও আরাম-আয়েশের কোনও কমতি হয় না। জ্যোতিষ অনুযায়ী, চন্দ্রমার মহাদশার সময় যদি এই রাশির কোনো মহিলা গর্ভবতী হন, তাহলে সেই সন্তান সাধারণত অত্যন্ত সুন্দর, বুদ্ধিমান, চঞ্চল ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে থাকে এবং চন্দ্রের কৃপা এমন শিশুদের উপর সর্বদা থাকে। সামগ্রিকভাবে, চন্দ্রের প্রভাবে কর্কট রাশির জাতকেরা জীবনে সাফল্য লাভ করেন।

কন্যা রাশি: কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের উপরও চন্দ্রমার কৃপা সবসময় বিদ্যমান থাকে, কারণ কন্যা বুধের রাশি এবং বুধ ও চন্দ্র মিত্র। চন্দ্রমার মহাদশা ও অন্তর্দশার সময় কন্যা রাশির জাতকদের জীবনে অসাধারণ সুখ আসে এবং তাঁরা সুখ-সম্পদে পরিপূর্ণ হন। এদের উপর ভাগ্যলক্ষ্মীর বিশেষ আশীর্বাদ বজায় থাকে। চন্দ্রমার মহাদশার সময় এই জাতকরা অভিনয়, নাচ, গান বা অন্যান্য পারফর্মিং আর্টস-এর মতো সৃষ্টিশীল ক্ষেত্রে অসাধারণ প্রদর্শন করতে পারেন এবং সম্মান ও খ্যাতির পাশাপাশি ভালো অর্থ উপার্জন করেন।

বৈদিক জ্যোতিষ অনুসারে চন্দ্রের এই বিশেষ অবস্থান এবং মিত্রত্বের সম্পর্কই বৃষ, কর্কট ও কন্যা— এই তিনটি রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে মানসিক শান্তি, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য ও সমৃদ্ধি লাভের সুযোগ এনে দেয়।