“পাল্টা আঘাত করতে পারে জঙ্গিরা”-কাশ্মীরে ফের হামলা ঠেকাতে সেনার মেজর অপারেশন শুরু

জম্মু-কাশ্মীরে পহেলগাম হামলার পর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে উপত্যকা জুড়ে বেছে বেছে জঙ্গিদের বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার পাল্টা হিসেবে বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে জঙ্গিরা – এমন গোয়েন্দা সতর্কতার জেরে উপত্যকা জুড়ে জোরকদম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। কাশ্মীরে ফের যাতে বড় ধরনের নাশকতা না হয়, তার জন্য রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

সেনা-গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পহেলগাম হামলার পর থেকে জঙ্গিদের বাড়িঘর ভাঙার ঘটনায় ক্ষুব্ধ জঙ্গিরা প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই পাল্টা আঘাতের আশঙ্কা করে গোয়েন্দারা জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বড় হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা ইন্ডিয়া টুডে সূত্রে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, সম্ভাব্য নিশানায় থাকতে পারে সেনাহিনীর উপর হামলা, নয়ত কাশ্মীরে বসবাসকারী বা ঘুরতে আসা ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এই নাশকতার ছক কষছে এবং তারা জঙ্গিদের কয়েকটি সংগঠনকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা জম্মু-কাশ্মীরের স্থানীয় বাসিন্দাদের টার্গেট না করে।

সেনাবাহিনীর গোয়েন্দারা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের ফোনে আড়ি পেতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগর ও গান্ডেরবাল জেলা প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার জন্য বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দুই জেলার জনবহুল এলাকা এবং স্পর্শকাতর স্থানগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

নিরাপত্তার এই প্রস্তুতি শুধুমাত্র জনবহুল এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষকেও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন। রেলের পরিকাঠামো ও রেল কর্মীদের নিরাপত্তা বাড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সতর্কতার পর রেল সুরক্ষা বাহিনীর (RPF) জওয়ানদের তাদের শিবির ও ব্যারাক ছেড়ে অন্যত্র না যাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পহেলগাম হামলার পর থেকেই লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC) বা নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তান সেনাবাহিনী টানা পাঁচ দিন ধরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি-বোমা বর্ষণ করছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সন্দেহ করছে, সীমান্তে তাদের ব্যস্ত রেখে জম্মু-কাশ্মীরের জনবহুল এলাকায় পাল্টা আঘাত হানার জন্য জঙ্গিদের সুবিধা করে দিতে চাইছে পাকিস্তান।

সব মিলিয়ে, পহেলগাম হামলার জেরে সৃষ্ট ক্ষোভ এবং জঙ্গিদের বাড়ি ধ্বংস করার পাল্টা আঘাতের আশঙ্কায় জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেনা, রেল এবং জনবহুল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের নাশকতা চালানোর যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া যায় এবং উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখা যায়।