পরপর ৪টি মিটিং করলেন PM মোদী, জেনেনিন পহেলগাঁওয়ের বদলা নেওয়ার ব্লুপ্রিন্ট কেমন?

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়ানক জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে চরম তিক্ততার আবহে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে ভারত। ২২ এপ্রিলের সেই রক্তাক্ত দিনে যে নৃশংসতা ঘটেছে, তা শুধু জম্মু-কাশ্মীর নয়, গোটা দেশের মনে ক্ষোভ আর যন্ত্রণার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করছে পাক সেনা, গোলা-গুলি চলছে। দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু করেছে মোদী সরকার। এই হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে রণনীতি সাজাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল, বুধবার, একের পর এক চারটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন।

সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বুধবার একদিনে চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকগুলোর মূল লক্ষ্য একটাই—পহেলগাঁওয়ের দোষীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত জবাব দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণ করা।

একনজরে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকসূচি:

  • সকাল ১১টা: ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS): দিনের প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হবে সকাল ১১টায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এর নেতৃত্বে থাকবেন। এই বৈঠকে সেনা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন। পহেলগাঁও হামলার পর এটি দ্বিতীয়বার CCS বৈঠক হতে চলেছে, যা থেকেই বোঝা যায় এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের সার্বিক সুরক্ষা পরিস্থিতি এবং সামরিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে এই বৈঠকে।

  • এরপর: ক্যাবিনেট কমিটি অন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স (CCPA): প্রথম বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বসবে ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স’ (CCPA)-এর বৈঠক। এই কমিটিতে থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গডকড়ি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সহ সরকারের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে এখানে।

  • এরপর: ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকনমিক অ্যাফেয়ার্স (CCEA): তৃতীয় বৈঠকটি হবে ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকনমিক অ্যাফেয়ার্স’ (CCEA)। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে আর্থিক দিক থেকে পাকিস্তানের প্রতি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সাজানো যেতে পারে, তার রূপরেখা তৈরি করা। পাকিস্তানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

  • দিনের শেষ: সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠক: চতুর্থ এবং দিনের শেষ বৈঠক হবে মন্ত্রিসভার সম্পূর্ণ অধিবেশনে। পহেলগাঁও হামলার পর এটিই প্রথমবার সম্পূর্ণ ক্যাবিনেট বৈঠক হতে চলেছে। এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট যে, এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সরকার বড়সড় এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকগুলিতে কেবল প্রতিরক্ষা বা সামরিক কৌশল নয়, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সিন্ধু জল চুক্তি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের উপর জলনীতি নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো যায় কিনা, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দেখা করে পহেলগাঁও হামলার পরিস্থিতি এবং সেনা প্রধানের কাছ থেকে পাওয়া সরাসরি রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। যদিও এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে, তবে রাজনৈতিক মহলের ধারণা— এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বুধবারের বৈঠকগুলির আলোচনার দিকনির্দেশ ঠিক হবে।

পহেলগাঁও হামলার পর দেশের নিরাপত্তা এবং পাকিস্তানের প্রতি নীতি নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই ব্যাপক আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীকালকের বৈঠকগুলি থেকে পহেলগাঁওয়ের দোষীদের বিরুদ্ধে শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।