‘আচমকা দেখছি গুলি চলছে-চিৎকার’, জিপলাইন থেকে ঝাঁপ মেরে বাঁচলেন পর্যটক, ক্যামেরায় ধরা পড়ল জঙ্গিদের বর্বরতা !

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ছবির মতো সুন্দর বৈসরন উপত্যকাই গত মঙ্গলবার মুহূর্তেের মধ্যে বদলে গিয়েছিল মৃত্যুপুরীতে। পর্যটকদের পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। ঐ ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২২ এপ্রিল ২৭ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। স্বজন হারানোর আর্তনাদে সেদিন ভারী হয়ে উঠেছিল বৈসরণের বাতাস।

সেদিনের সেই ভয়াবহ জঙ্গিহামলার একটি নতুন ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে, যা ঘটনার ভয়াবহতা আরও একবার চোখের সামনে তুলে ধরেছে। ভিডিওটি বৈসরনে জিপলাইন রাইডে চড়ার সময় ধারণ করেছিলেন গুজরাতের এক প্রত্যক্ষদর্শী পর্যটক, ঋষি ভাট। তিনি গোটা জিপলাইনের রাইড জুড়েই একটি সেলফি স্টিকে ক্যামেরা ধরে রেখেছিলেন। আর তাঁর অজান্তেই সেই ক্যামেরায় পহেলগাঁওয়ের বৈসরনে জঙ্গিদের বর্বর হত্যাকাণ্ড এবং পর্যটকদের পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করার দৃশ্য উঠে এসেছে।

ঋষি জানিয়েছেন, তিনি জিপলাইনে ওঠার আগে আরও ন’জন তাতে উঠে উপত্যকার অপর প্রান্তে গিয়েছিলেন। এই ন’জনের মধ্যে তাঁর স্ত্রী এবং পুত্রও ছিলেন। জিপলাইনিং শুরু হওয়ার পরই তিনি উপর থেকে নীচে পর্যটকদের লক্ষ্য করে জঙ্গিদের গুলি চালাতে দেখেন। ভয়ে চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা করছিলেন পর্যটকেরা।

জঙ্গিদের হাত থেকে কী ভাবে নিজে এবং পরিবার রেহাই পেলেন, সে কথাও জানিয়েছেন ঐ পর্যটক। ঋষির কথায়, ‘জিপলাইনে ওঠার প্রায় ২০ সেকেন্ড পরে আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম যে জঙ্গিরা গুলি চালাচ্ছে।’ বিপদ বুঝে তিনি জিপলাইন অপর প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই প্রায় ১৫-১৭ ফুট উঁচু থেকে গায়ে লাগানো বেল্ট খুলে নীচে ঝাঁপ দেন। মাটিতে নেমেই তিনি দ্রুত স্ত্রী এবং পুত্রকে নিয়ে দৌড় দেন। একটি ঝোপ এলাকায় পরিবারকে নিয়ে প্রায় ২৫ মিনিট লুকিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছেন ঋষি। পরে সেনা গিয়ে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে। ঋষি এ-ও জানিয়েছেন যে, জঙ্গিরা প্রথমে প্রায় ৮-১০ মিনিট ধরে একটানা গুলি চালিয়েছিল। কিছু ক্ষণ বিরতি নিয়ে ফের গুলি চালানো হয়।

জিপলাইন থেকে ঋষি ভাটের ক্যামেরাবন্দী করা এই ভিডিওটি পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে এবং ঐ দিনের ভয়াবহতা ও জঙ্গিদের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরেছে।