কঠিন পরিস্থিতিতে একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন রাহুল গান্ধী, প্রধানমন্ত্রীকে লিখলেন চিঠি

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। এই আবহেই এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি লিখেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল এবং পহেলগাঁও হামলার ঘটনা নিয়ে সংসদে দ্রুত একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার আর্জি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯শে এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে রাহুল গান্ধী বলেছেন, পহেলগাঁওয়ের হামলার ঘটনা প্রত্যেক ভারতীয়ের মনে গভীর ক্ষোভ এবং দুঃখ তৈরি করেছে। এই কঠিন সময়ে গোটা দেশের একজোট হওয়া এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থান বিশ্বকে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমরা সবাই একজোট, সেটাই প্রমাণ করা উচিত। রাহুল গান্ধী তাঁর চিঠির প্রতিলিপি নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেছেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও কংগ্রেস সাংসদ তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেও পহেলগাঁও হামলার ঘটনা নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিস্তারিত আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধী একই আর্জি পেশ করলেন।

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে ভারত এই হামলার যোগ্য জবাব দেবে এবং বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে জঙ্গিদের খুঁজে বের করে আনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা একদিকে যেমন পাকিস্তানের জন্য ছিল হুঁশিয়ারি, তেমনই দেশের মানুষের জন্য ছিল আশ্বাসের বাণী।

তবে হামলার পর যে সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়েছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন না বলে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিরোধীদের তরফে দাবি করা হয়েছিল, যখন দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেই সময় প্রধানমন্ত্রী যেন বিভাজন তৈরি করছেন।

এই পরিস্থিতিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অধিবেশন ডাকার আর্জি এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের উপর জোর দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন জাতীয় নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সংসদে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, তেমনই কঠিন সময়ে দেশীয় সংহতির উপর জোর দেয়। এই চিঠির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।