SPORTS: “বোলার দেখি না, বল দেখি শুধু”-৩৫ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে যা বললেন বৈভব সূর্যবংশী

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর মঞ্চে মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক বিস্ফোরক সেঞ্চুরি করে রাতারাতি পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন রাজস্থানের তরুণ তুর্কি বৈভব সুর্যবংশী। গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি শুধু রেকর্ড বইয়েই নাম লেখাননি, ক্রিকেটপ্রেমীদের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন। ব্যাট হাতে তাঁর তাণ্ডব দেখে তাবড় তাবড় আন্তর্জাতিক বোলাররাও হতবাক হয়েছেন। তবে এই সবকিছুর মধ্যেও ম্যাচের পর বৈভব ছিলেন আশ্চর্যরকম নির্বিকার। ম্যান অফ দা ম্যাচের পুরস্কার হাতে তুলে নেওয়ার পর সম্প্রচারকারী চ্যানেলে মুরলি কার্তিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তার কিছু মন্তব্য তার মানসিকতার পরিচয় দেয়।

ম্যান অফ দা ম্যাচের পুরস্কার হাতে বৈভব যখন মাঠে আসেন, তখন তাকে দেখে ধারাভাষ্যকার মুরলি কার্তিকও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যান। তিনি বৈভবকে প্রশ্ন করেন, “তুমি এত ছোটো যে আমি নিজেও বুঝতে পারছি না কী প্রশ্ন করব তোমাকে। ম্যাচে এত ভালো খেললে, কী বলবে?” উত্তরে বৈভব শান্তভাবে বলেন, “আমার ভালো লাগছে। আইপিএল-এ এই নিয়ে তৃতীয় ম্যাচ খেললাম। এই টুর্নামেন্টের জন্য বিগত কয়েক মাস ধরে পরিশ্রম করছিলাম। তার ফল হাতেনাতে পেলাম।”

মুরলি কার্তিক বৈভবের খেলার ধরন ও তার মিষ্টি কথার মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, “তুমি এত মিষ্টি মিষ্টি কথা বলো। কিন্তু ব্যাট হাতে রুদ্ররূপ দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বোলারদের শাসন করছ তুমি। বোলারদের কথা কখনও ভাবো না?” এই প্রশ্নের উত্তরেই বৈভব তার ক্রিকেটীয় মানসিকতার পরিচয় দেন। তিনি বলেন, “না আমি ওসব অত দেখি না। কেবল বল দেখি। আসলে ওটাই আমার কাজ।” তিনি আরও বলেন, “আমি বোলারদের দেখি না। বল দেখি।”

ম্যাচে ওপেনিং পার্টনার যশস্বী জয়সওয়ালের সঙ্গে তার ব্যাটিং নিয়েও কথা হয়। মুরলি কার্তিক বলেন যে, দেখে মনে হচ্ছিল জয়সওয়াল বৈভবের ব্যাটিং দেখে গর্বিত এবং খুব আনন্দ পাচ্ছিলেন। এর উত্তরে বৈভব বলেন, “হ্যাঁ, যশশ্বী একজন দারুণ ক্রিকেটার। অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওর সঙ্গে ব্যাট করে মজা পাই। ও সব সময় পজেটিভ কথা বলে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে খেলা উচিত, সেটা নিয়েও পরামর্শ দেয়। তাই ব্যাট করা সহজ হয়ে যায়।”

মাত্র ১৪ বছর বয়সে এত বড় বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলে এবং রান করে তার কেমন লাগছে, এই প্রশ্নের উত্তরে বৈভব বলেন, “আমার কোনো ব্যাপারে ভয় নেই। তবে পরিশ্রম করেছি। তার রেজাল্ট আজ পেলাম।” তার এই মন্তব্য তার আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রমের প্রতি তার বিশ্বাসের পরিচয় দেয়।

ভবিষ্যতে সমস্ত বোলাররা তাকে টার্গেট করবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে বৈভব বলেন, “না। এসব আমি একেবারেই ভাবছি না। আমি শুধু খেলায় মনোযোগ দিতে চাই।”

সোমবার গুজরাট টাইটান্সকে রাজস্থান রয়্যালস হারালেও, এখনও পর্যন্ত ১০ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টি জয় পাওয়ায় রাজস্থানের প্লে অফে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে দলের ফলাফল যাই হোক না কেন, সমর্থকরা বৈভবকে নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। তারা আশা করছেন, পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও এই কিশোর তার দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যাবে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই ধরনের মানসিকতা এবং ক্রিকেটীয় পারদর্শিতা দেখে বিশেষজ্ঞরা মুগ্ধ। বৈভব সুর্যবংশী ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা এবং সঠিক মানসিকতা ও পরিশ্রমে যেকোনো বাধাকে অতিক্রম করা সম্ভব।