“আজ এখানে পৌঁছেছি ওঁদের জন্যই…”-ইতিহাস গড়ে কাদের কৃতিত্ব দিলেন ‘ওয়ান্ডারবয়’ বৈভব

“কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলে না” – প্রতিটি সফল মানুষের জীবনের দিকে তাকালে এই কথাটি নির্মম সত্য হয়ে ধরা দেয়। পরিশ্রম, ত্যাগ আর কঠিন সংগ্রাম ছাড়া জগতে বড় হওয়া বা নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায় না। ১৪ বছর বয়েসি বৈভব সুর্যবংশী, যিনি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর মঞ্চে রেকর্ড সেঞ্চুরি করে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, তার জীবনও এই চিরন্তন সত্যেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাকে নিয়ে এখন চারিদিকে আলোচনা, প্রশংসা। সচিন তেন্ডুলকর থেকে রোহিত শর্মা— সকলেই তাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তবে এই সবকিছুর মধ্যেও শান্ত বৈভব। তার চোখ অনেক দূর, স্বপ্ন ভারতের হয়ে খেলা। আর আজকের এই সাফল্যের পেছনে কাদের অবদান, সে কথা জানাতে ভোলেননি এই তরুণ তারকা।
গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে রেকর্ড সেঞ্চুরি করে বৈভব যেমন ইতিহাস লিখেছেন, তেমনই ক্রিকেটীয় প্রতিভা দিয়ে মুগ্ধ করেছেন সকলকে। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে কঠিন পরিশ্রম আর পরিবারের বিশাল আত্মত্যাগ। বিহারের সমস্তিপুরের ছোট্ট গ্রাম তাজপুরের ছেলে সে। ছোট থেকেই অভাব অনটনের মধ্যে বড় হয়েছেন, টিকে থাকার জন্য পরিশ্রম করতে হয়েছে। ছিল না তেমন কোনো ভালো ক্রিকেটীয় পরিকাঠামোও। এই সবকিছুর মধ্যেও তার পাশে দাঁড়িয়েছে পরিবার। ম্যাচ শেষে এক সাক্ষাৎকারে বৈভব এই নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন।
সে বলে, “আমি আজ যা কিছু হয়েছি, সবটাই মা-বাবার জন্য। রাত ১১টায় ঘুমিয়ে ২টোর সময় উঠে মা প্র্যাক্টিসে পাঠায় আমাকে। মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমিয়ে, খাবার বানানোর জন্য উঠে পড়ে।” মায়ের এই আত্মত্যাগ তাকে ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে এক বড় শক্তি জুগিয়েছে।
শুধু মা নয়, বৈভবের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার পেছনে বাবা এবং দাদারও রয়েছে বিশাল আত্মত্যাগ। বৈভব জানান, “বাবা আমার জন্য নিজের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিল। সংসার চালানোর জন্য বাবার কাজটা নিয়েছিল দাদা। বাবা পুরো সময়টাই দিয়েছিল আমায় সব রকম ভাবে সাহায্য ও সমর্থন করার জন্য। উনি বিশ্বাস করেন, কঠোর পরিশ্রম কখনও বিফলে যায় না। তাই আজ যে সাফল্য আমি পেয়েছি, যেখানে পৌঁছেছি, সবটা ওঁদের জন্যই।” পরিবারের এই অকৃত্রিম সমর্থনই বৈভবকে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।
𝙏𝙖𝙡𝙚𝙣𝙩 𝙢𝙚𝙚𝙩𝙨 𝙊𝙥𝙥𝙤𝙧𝙩𝙪𝙣𝙞𝙩𝙮 🤗
He announced his arrival to the big stage in grand fashion 💯
It’s time to hear from the 14-year old 𝗩𝗮𝗶𝗯𝗵𝗮𝘃 𝗦𝘂𝗿𝘆𝗮𝘃𝗮𝗻𝘀𝗵𝗶 ✨
Full Interview 🎥🔽 -By @mihirlee_58 | #TATAIPL | #RRvGT https://t.co/x6WWoPu3u5 pic.twitter.com/8lFXBm70U2
— IndianPremierLeague (@IPL) April 29, 2025
আইপিএল মাতানো এই ১৪ বছরের ক্রিকেটারের চোখ এখন দেশের জার্সিতে। এ বিষয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে বৈভব বলে, “সত্যিটা হলো, এখন থেকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে আমাকে। যতক্ষণ না ভারতের হয়ে খেলতে পারব, তত দিন পর্যন্ত আরও ভালো পারফর্ম করে যেতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত এই স্বপ্ন পূরণ করার জন্য। দেশের হয়ে অবদান রাখতে চাই।”
𝙍𝙖𝙬. 𝙍𝙪𝙩𝙝𝙡𝙚𝙨𝙨. 𝙍𝙚𝙘𝙤𝙧𝙙-𝘽𝙧𝙚𝙖𝙠𝙞𝙣𝙜 😎
🎬 Relive Vaibhav Suryavanshi's knock for the ages, up close and intensified! 🔥 #TATAIPL | #RRvGT | @rajasthanroyals pic.twitter.com/PYMFn77VBY
— IndianPremierLeague (@IPL) April 29, 2025
বৈভবকে নিয়ে এখন মেতে ক্রিকেটপ্রেমীরা। তার প্রতিভা দেখে বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন ক্রিকেটাররা মনে করছেন, সে ভবিষ্যতের এক বড় তারকা হয়ে উঠবে। বাবা-মা এবং ভাইয়ের আত্মত্যাগ, নিজের কঠোর পরিশ্রম আর ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন – এই সবকিছু নিয়েই বৈভব সুর্যবংশী এখন ক্রিকেট ভক্তদের কাছে এক নতুন অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে তিনি কতটা পথ এগোন, সেটাই দেখার।