‘আত্মহত্যার প্রবণতা আছে আমার মক্কেলের’, ‘চিনু দা’ কোর্টে হাজির হতেই দাবি আইনজীবীর

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন নাম এবং দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ। এই মামলার তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকা অরুণ হাজরা ওরফে ‘চিনু দা’ মঙ্গলবার (২৯শে এপ্রিল) আলিপুর আদালতে হাজিরা দিলেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি অনুযায়ী, নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম মূল অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’-র অন্যতম প্রধান এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন এই অরুণ হাজরা।
সূত্রের খবর, এই অরুণ হাজরা ওরফে চিনু দা সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের হাতে চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তোলা প্রায় ৭৮ কোটি টাকা তুলে দেন বলে অভিযোগ। দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ এই অর্থ তিনি সুজয়কৃষ্ণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করতেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন আদালতে হাজিরা দিয়ে অরুণ হাজরার আইনজীবী তাঁর মক্কেলের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে জামিনের আবেদন জানান। আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের সুগার এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো শারীরিক সমস্যা রয়েছে। শুধু তাই নয়, অরুণ হাজরার আত্মহত্যার প্রবণতা আছে বলেও গুরুতর দাবি করেন আইনজীবী।
আদালতের বিচারক এদিন মামলার তদন্তকারী অফিসারের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং চার্জশিটে অভিযুক্ত অরুণ হাজরার বিরুদ্ধে ঠিক কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বিস্তারিত জানতে চান। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর আইনজীবী তখন জানান যে, অভিযুক্ত অরুণ হাজরা এই মামলায় মূলত একজন মধ্যস্থতাকারী (intermediary) হিসেবে কাজ করেছেন।
কিন্তু বিচারক নিজে চার্জশিট খতিয়ে দেখে সিবিআই আইনজীবীর বক্তব্যের সঙ্গে চার্জশিটের অভিযোগের তারতম্য খুঁজে পান। বিচারক বলেন, চার্জশিটে অরুণ হাজরার বিরুদ্ধে শুধু মধ্যস্থতাকারী নয়, আরও অনেক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর বিচারক প্রশ্ন তোলেন, ৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতির মতো এত গুরুতর অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, সেই অভিযুক্ত ব্যক্তি যখন আদালতে নিজেই হাজিরা দিয়েছেন, তখন কেন মামলার তদন্তকারী অফিসার আদালতে উপস্থিত নেই? বিচারকের এই প্রশ্ন তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবারও অরুণ হাজরার আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন তাঁর আইনজীবী মক্কেল অসুস্থ বলে আদালতে জানিয়েছিলেন এবং সেই যুক্তিতে তিনি হাজিরা দেননি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শুধু প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নয়, এসএসসি (SSC), রেল সহ আরও বিভিন্ন সরকারি বিভাগে চাকরি দেওয়ার নামেও বিভিন্ন সময়ে টাকা তুলতেন এই অরুণ হাজরা। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ও রয়েছে। একসময় তিনি কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন, এরপর তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং সম্প্রতি তাপস রায়ের হাত ধরে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-তে যোগ দিয়েছিলেন।
আদালতের বিচারকের প্রশ্ন এবং তাঁর পর্যবেক্ষণ এই মামলার তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এবং অভিযুক্তের রাজনৈতিক যোগ এই মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং তদন্তকারী সংস্থা বিচারকের পর্যবেক্ষণের পর কী ভূমিকা নেয়, সেটাই এখন দেখার।