বন্ধ করা হল পর্যটনের ‘ঝাঁপ’, পহেলগাঁওয়ের হামলার পরই কাশ্মীরে বড় পদক্ষেপ সরকারের

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার ভয়াবহ ছায়া এবার সরাসরি পড়ল উপত্যকার পর্যটন শিল্পে। যে কাশ্মীর গত কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের বিপুল সমাগমে ফের চেনা ছন্দে ফিরছিল, একটি মাত্র হামলাই যেন তাকে আবারও এক দশক আগের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় উপত্যকার সরকার এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে – সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক পর্যটন কেন্দ্র ও রিসোর্ট।
মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট ৪৮টি রিসোর্ট ও পর্যটন কেন্দ্র আপাতত ভাবে বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় কিছু স্থান যেমন দুধপাত্রি এবং ভেরিনাগ। হঠাৎ করে এই সমস্ত জায়গায় পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই অনেকেই হতাশ।
কিন্তু কেন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলো উপত্যকার সরকার? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর গোটা কাশ্মীর জুড়েই এক ধরণের ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে। নতুন করে জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা এবং উপত্যকা আবার তার পুরনো অশান্ত রূপে ফিরে আসছে কিনা, এই আশঙ্কা অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান প্রয়োজন। খবর অনুযায়ী, পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত চক্রীরা এখনও কাশ্মীরের অন্দরেই লুকিয়ে আছে এবং তাদের খুঁজে বের করার জন্য সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এই জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য আরও হামলার ঝুঁকি এড়াতেই সরকার আপাতত পর্যটনে সাময়িক বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এটি নিঃসন্দেহে কাশ্মীরের উদীয়মান পর্যটন শিল্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা। গত বছর অর্থাৎ ২০২৩ সাল থেকে কাশ্মীর ধাপে ধাপে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমন দেখেছে। চলতি গ্রীষ্মেও পর্যটনের মাধ্যমে উপত্যকার অর্থনীতিতে এক বাড়তি অক্সিজেনের আশা ছিল। কিন্তু পহেলগাঁওয়ের ঘটনা এবং তার জেরে ৪৮টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মঙ্গলের এই পদক্ষেপ কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবস্থাকে অন্তত কিছুদিনের জন্য লাইনচ্যুত করবে। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগেভাগেই সতর্কতা হিসেবে পর্যটনের ঝাঁপ বন্ধ করা হলো, যা উপত্যকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনের জন্য এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।