“পাকিস্তানিরা দুর্ভোগে আছে, ওদের আক্রমণের প্রয়োজন নেই”- বিজয় দেবরকোন্ডা

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের উপর হওয়া নৃশংস হামলার ঘটনায় গোটা দেশ যখন অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে সোচ্চার, তখন এই বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তারকারা। এবার দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয় দেবেরকোন্ডা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখার পক্ষেও জোরালো সওয়াল করলেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষাকেই প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরলেন।
সম্প্রতি অভিনেতা সূর্য অভিনীত তামিল ছবি ‘রেট্রো’র প্রচারমূলক অনুষ্ঠানে গিয়ে পেহেলগাম হামলা প্রসঙ্গে কথা বলেন বিজয় দেবেরকোন্ডা। তিনি বলেন, “কাশ্মীরে যা চলছে, তার একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হলো শিক্ষার প্রসার ঘটানো। এর মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের সহজে মগজ ধোলাই করা যাবে না এবং ভুল পথে চালিত হওয়া থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, “ওরা (জঙ্গিরা/যারা ভুল বোঝায়) কী পাবেন? কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কাশ্মীরিরা আমাদেরই আপনজন। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য।”
প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমণ না চালিয়ে বরং নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেছেন বিজয়। তাঁর ভাষ্য, “পাকিস্তান তো নিজেদের দেখভাল নিজেরাই করতে পারে না। ওদের প্রয়োজনীয় জল, বিদ্যুতের তীব্র অভাব রয়েছে এবং ওখানকার নাগরিকেরাই নিজেদের সরকারের উপর অত্যন্ত বিরক্ত।” তাই তাঁর মতে, “এই মুহূর্তে ভারতের কোনও প্রয়োজনই নেই ওই দেশকে আক্রমণ করার।” বরং এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকদের উচিত পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখা এবং নিজেদের দেশ গড়ার কাজে মন দেওয়া।
বিজয়ের কথায়, “শিক্ষাই আমাদের সমাজের এবং জীবনের মূলধন। আসুন আমরা সকলে মিলেমিশে সুখে থাকি, আমাদের অভিভাবকদের সুখে রাখি। একমাত্র এই পথেই আমরা দেশের প্রকৃত উন্নতি করতে পারব।” তিনি মনে করেন, যুব সমাজকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারলে এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
এই প্রসঙ্গে বিজয় দেবেরকোন্ডা কাশ্মীরের প্রতি তার ব্যক্তিগত স্মৃতিও রোমন্থন করেছেন। তিনি জানান, বছর দুয়েক আগে একটি ছবির কাজের সূত্রে তিনি কাশ্মীরে ছিলেন এবং সেখানেই নিজের জন্মদিনও পালন করেছিলেন। কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সেখানকার মানুষের আতিথেয়তার প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
পহেলগাম হামলার পর যখন অনেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলছেন, তখন বিজয় দেবেরকোন্ডার মতো একজন তারকা শিক্ষাকে সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সৌহার্দ্যের উপর জোর দিয়েছেন, যা এক ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেছে।