“শত্রুর গতিবিধি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মাপা শুরু…”-বাংলার সীমান্তে এলাকায় বাড়ানো হলো নজরদারি

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার পর গোটা দেশ রাগে ফুঁসছে। এই ঘটনার সরাসরি দায় পাকিস্তানের উপর চাপিয়ে ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত। দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া নজরদারি শুরু করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিশেষ করে জলপথ ও স্থলপথের কোস্টাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে জলপথ ও স্থলপথে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিএসএফের নজর রয়েছে আকাশপথেও। ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের উপর কড়া প্রহরা বসানো হয়েছে। সন্দেহজনক গতিবিধির উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর দেশটি এখন পাকিস্তানের কাছে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’। এই পরিবর্তিত কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা সূত্রে এমন খবরও পাওয়া গেছে যে, ভারতকে বিপাকে ফেলার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান নাকি বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহার করার চিন্তাভাবনাও করছে। তেমনটা হলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সীমান্তবর্তী ভারতের একাধিক জেলা সরাসরি প্রভাবিত হতে পারে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

এই আশঙ্কার আবহে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থেকে হিঙ্গলগঞ্জের হেমনগর কোস্টাল থানা পর্যন্ত বিস্তৃত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর বিএসএফের তৎপরতা বিশেষভাবে চোখে পড়ছে। এই অংশে মোট ৯৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৫০ কিলোমিটার জল সীমান্ত (মূলত নদীয়া ও উপকূলীয় এলাকা) এবং ৪৪ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত। এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর লক্ষ্য একটাই – কোনোভাবেই যাতে দেশের সুরক্ষাবলয় ভেদ করে কোনো সন্ত্রাসী বা দুষ্কৃতী কার্যকলাপ না ঘটে। বিএসএফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর এবং সীমান্ত সুরক্ষায় এক ছটাক জমিও তারা ছাড়তে নারাজ। পহেলগাম হামলার পর সৃষ্ট উত্তেজনার আবহে এই অতিরিক্ত সতর্কতা শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।