এক বছর পর ভুলের খেয়াল, ছাত্রের মামলার জেরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা-বিধি সংশোধন সংসদের

প্রায় এক বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পরীক্ষা-বিধিতে একটি বড়সড় ভুল রয়ে গিয়েছিল, যা অবশেষে সংশোধন করা হলো। তবে এই ভুলের সংশোধন নিজে থেকে করেনি সংসদ, এর নেপথ্যে রয়েছে একজন ছাত্রের দায়ের করা একটি মামলা।
কোথায় ছিল ত্রুটি?
গত বছর প্রকাশিত একটি নির্দেশিকায় নতুন সেমিস্টার পদ্ধতির অধীনে পরীক্ষার পাশ সংক্রান্ত নিয়মাবলী উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল যে, তিনটি বিষয়ের মধ্যে যে কোনও একটিতে ৩০ শতাংশ নম্বর পেলেই একজন পড়ুয়াকে পাশ করানো হবে। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের আসল নিয়ম অনুযায়ী, আবশ্যিক ভাষা বিষয়গুলিতে (বাংলা ও ইংরেজি) পাশের পাশাপাশি মোট চারটি ঐচ্ছিক বা ইলেক্টিভ বিষয়ের মধ্যে অন্তত তিনটিতে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ করে নম্বর পেলে তবেই একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে পাশ করানো হয়। সেমিস্টার পদ্ধতির পরীক্ষা-বিধিতে এতদিন ধরে এই গুরুতর ভুলটি বিদ্যমান ছিল। অবশেষে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই ত্রুটিটি শুধরে নিয়েছে সংসদ।
মামলার সূত্রপাত
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ভাষা বিষয়গুলিতে উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া চারটি ইলেক্টিভ বিষয়ের মধ্যে তিনটিতে পাশ করতে হয়। সদ্য শেষ হওয়া দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফলাফলে দেখা যায়, এক ছাত্র তার একটি ঐচ্ছিক বিষয়ে ৩০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। কিন্তু স্কুলের পক্ষ থেকে তাকে পাশ করানো হয়নি। নিয়মাবলীর এই গরমিল দেখে ওই ছাত্রটি সংসদকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। ছাত্রটির আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরেই সংসদের কর্তাদের নজরে আসে পরীক্ষা-বিধির এই বিশাল ভুলটি।
জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা ছিল
প্রশ্ন উঠছে, যদি এই ভুলটি নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রবেশ করা পর্যন্ত সংশোধন না করা হতো, তাহলে কী পরিস্থিতি তৈরি হতো? কারণ, নতুন নিয়মানুযায়ী এবার থেকে আলাদা করে উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের কোনও চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে না। তৃতীয় এবং চতুর্থ সেমিস্টারের প্রাপ্ত নম্বরকেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল হিসেবে গণ্য করা হবে। যদি এই ভুল নিয়ম বহাল থাকত, তাহলে চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় পাশ-ফেল নির্ধারণ নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতো। সেক্ষেত্রে আরও বহু ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিত এবং মামলা-মোকদ্দমা বাড়ার আশঙ্কাও প্রবল ছিল।
সংসদের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে সংসদের এক আধিকারিক স্বীকার করেছেন যে, “এই বড় ভুলটি শিক্ষাবিধিতে প্রায় এক বছর আগেই তৈরি হয়েছিল।” তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ নয়, রাজ্য শিক্ষা দফতরের অধীনে বিকাশ ভবনের ল’সেকশনের আধিকারিকদেরও এই ভুলটি প্রথমদিকে চোখে পড়েনি। তবে এত বড় একটি নিয়মগত ত্রুটি কীভাবে সংসদ এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের চোখ এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন উঠছে, এবং খোদ সংসদ কর্তৃপক্ষও এর সঠিক কারণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে।