‘দলের ভিতরের লোকজনের কাছেই ভয় হয়’, বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সোজাসুজি কথা বলতে ভালোবাসেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মনের মধ্যে ক্ষোভ বা অভিযোগ চেপে রাখতে পারেন না, তা সরাসরি প্রকাশ করেন। এতে কে কী ভাবল, তা নিয়ে তিনি বিশেষ মাথা ঘামান না। একদিকে তিনি যেমন একজন নামী আইনজীবী, তেমনই অন্যদিকে একজন ডাকসাইটে সাংসদও। ওয়াকফের বৈঠকে বোতল ভাঙার ঘটনা হোক বা অন্য কোনও বিতর্ক, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আক্রমণের মুখেও তিনি কখনও পিছপা হননি। কিন্তু সেই তিনিই রবিবার একটি দলীয় অনুষ্ঠানে এসে এমন এক মন্তব্য করেছেন যা রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি নাকি দলের অন্দরের লোকজনের কাছেই ভয় পান!
তৃণমূল কংগ্রেস যখন বিরোধী আসনে ছিল, তখন কঠিন সময়ে লড়াই–সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্যের পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তাঁর মনের গভীরে কোনও কষ্ট বা ক্ষোভ চাপা রয়েছে? যদিও কল্যাণবাবু বলেছেন, “দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বারবার অনুরোধ করতেন যাতে দলের ভিতরে সত্যিকারের কর্মীদের খুঁজে পাওয়া যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শেই কুণাল ঘোষের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন সংগঠনের কথা ভাবা হয়েছিল। দুর্দিনে আমি আর কুণাল ঘোষ একসঙ্গে লড়াই করেছি। প্রচুর সমালোচনা শুনতে হয়েছে। তবে মনে রাখবেন, যাঁর উপকার করবেন, অনেক সময় তিনিই আপনার মাথায় আঘাত করবেন।” তাঁর এই শেষ বাক্যটি দলের অন্দরের কিছু লোকের দিকে ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে এবং এটি যথেষ্ট অস্বস্তিকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।
যদিও নিজের বক্তব্যের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর অবদানের কথা এবং বাংলার মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নিরন্তর ভাবনার কথা বারবার তুলে ধরেছেন কল্যাণবাবু। তিনি বলেছেন, “একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সবসময় আপনাদের কথা ভাবেন। মনে রাখবেন, উনিই ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অন্য রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশ্য আপনাদের ক্ষতি করা হলেও দিদির নেতৃত্বে আমরা সবসময় সেই ক্ষতির ঊর্ধ্বে উঠে আপনাদের পাশে থাকব। আপনাদের ভয়ের কিছু নেই। শুধু কাজ করে যান। আমরা পাশে আছি।” এই কথাগুলো বললেও ‘কার দিকে ইঙ্গিত করলেন’, তা অবশ্য তিনি খোলসা করেননি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দলের একাধিক বিধায়ক থেকে শুরু করে নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। দলের ছাত্র–যুব সংগঠনের কাজকর্ম নিয়েও প্রকাশ্যেই সমালোচনা করেছেন। এমনকি একবার বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিককে গাড়ি থেকেও নামিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। আর আজ দলীয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকপট স্বীকারোক্তি, “আমি সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে বড় হয়েছি। বিজেপি বা সিপিএম কাউকেই ভয় পাই না। বরং দলের ভিতরের লোকজনের কাছেই ভয় হয়।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে – দলের অন্দরে ঠিক কাদের তিনি ‘ভয়’ পান? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।