AI-এর ব্যবহার বাড়ছে, জেনেনিন প্রতি মাসে Gemini-ব্যবহারকারী এখন কত?

গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ‘জেমিনি’ বিশ্বজুড়ে দ্রুত গতিতে তার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের গুগলের একটি অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার শুনানিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেমিনির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটিতে পৌঁছে গেছে, যা এআই চ্যাটবটের জগতে গুগলের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।
চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত হালনাগাদ করা এই পরিসংখ্যান টেকক্রাঞ্চ সহ একাধিক সূত্রে উঠে এসেছে। তথ্যে দেখা যাচ্ছে, মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে জেমিনির ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। গত বছরের অক্টোবরেও যেখানে জেমিনির দৈনিক ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ৯০ লাখ, সেখানে এখন মাসিক ব্যবহারকারী ৩৫ কোটিতে পৌঁছেছে। এই দ্রুত বৃদ্ধি গুগলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তবে, এই বিশাল বৃদ্ধি সত্ত্বেও, গুগল জেমিনি এখনো বাজারে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছে। মার্চ মাসে ওপেনএআই-এর জনপ্রিয় চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির মাসিক ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ৬০ কোটি। অন্যদিকে, মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, মেটার সমস্ত এআই টুলের সম্মিলিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ কোটি। যদিও মাইক্রোসফটের কোপাইলটও জেমিনির একটি সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, তবে এর ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট সংখ্যা এই পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জেমিনির এই দ্রুত বিস্তার একদিকে যেমন গুগলের শক্তিশালী প্রযুক্তি সক্ষমতার প্রমাণ, তেমনই অন্যদিকে এটি তাদের বিরুদ্ধে চলমান একচেটিয়া আধিপত্যের মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। জেমিনির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার গুগলের বাজার প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যা অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
গুগল গত এক বছরে জেমিনিকে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে বিভিন্ন জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সংযুক্ত করেছে। স্যামসাং ফোন, গুগল ওয়ার্কস্পেস এবং ক্রোমের মতো বহুল ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মে জেমিনির সরাসরি সংযোগ কোটি কোটি নতুন ব্যবহারকারীর কাছে এটিকে দ্রুত পৌঁছে দিতে সহায়ক হয়েছে।
বর্তমানে জেমিনি ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি, মাইক্রোসফটের কোপাইলট এবং মেটার এআই সেবার সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় রয়েছে। বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষেবার ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে করে আগামী দিনে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার শুনানিতে জেমিনির ব্যবহারকারীর সংখ্যার এই প্রকাশ একদিকে যেমন গুগলের এআই ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়, তেমনই অন্যদিকে এটি তাদের আইনি লড়াইয়ের ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারে।