“সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নয়, এটা করলেই ছটফট করবে পাকিস্তান”- দেখেনিন খান স্যারের কী প্ল্যান?

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার ঘটনায় গোটা দেশ জুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই বর্বরোচিত হামলায় জড়িত জঙ্গিদের খুঁজে বের করে তাদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। ভারত ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা অন্যতম। এই আবহে জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যার পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি নতুন এবং বিতর্কিত কৌশল বাতলেছেন, যা প্রতিবেশী দেশটির জন্য ‘দ্বিগুণ আঘাত’ হানতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
সেনাবাহিনীর ব্যাপক অভিযান
পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী উপত্যকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। কাশ্মীরের ঘন বনাঞ্চলে ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি চলছে এবং সন্ত্রাসবাদীদের আস্তানা খুঁজে বের করে সেগুলো উড়িয়ে দেওয়ার অভিযানও পুরোদমে চলছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী একের পর এক জঙ্গি আস্তানা খুঁজে বের করে ধ্বংস করছে। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকালেও অনন্তনাগ জেলায় আরও দুটি জঙ্গি আস্তানা IED দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
‘সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা কোনও সমাধান নয়’
এই প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যার তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি ভিন্ন পরিকল্পনা শেয়ার করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে শুধু সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা বা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। খান স্যার বলেন, “১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তির অধীনে আমরা সিন্ধু নদীর ৮০% জল ছেড়ে দিতাম। ভারত এই চুক্তি স্থগিত করেছে, কিন্তু চুক্তি স্থগিত করা কোনও সমাধান নয়। কারণ আমরা এর জল সরিয়ে কোথায় রাখব?”
তিনি আরও পরামর্শ দেন, “এর জন্য আমাদের একটি নতুন বাঁধ তৈরি করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিত থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাঁধ তৈরি করতে হবে এবং পাকিস্তানের সমস্ত জল বন্ধ করে দিতে হবে। গ্রীষ্মে সমস্ত জল বন্ধ করে দিতে হবে। বর্ষাকাল আসার আগেই পাকিস্তান গরমে সম্পূর্ণ পুড়ে যাবে। বাঁধ ভরে গেলে খুলে দিতে হবে। প্রথমে খরা দিয়ে এবং তারপর বন্যা করিয়ে পাকিস্তানকে টাইট দিতে হবে। কারণ পাকিস্তান মানবতাকে ছেড়ে দিয়েছে।”
‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকও কোনও কঠিন সমাধান নয়’
সার্জিক্যাল স্ট্রাইক প্রসঙ্গে খান স্যার বলেন যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক জরুরি এবং প্রয়োজনীয়, কিন্তু এটি কোনও কঠিন বা চূড়ান্ত সমাধান নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেনাবাহিনী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে ৫০ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত করলেই কি আমাদের এতজন নিরীহ মানুষ নিহত হওয়ার ক্ষতিপূরণ হবে? তাঁর মতে, ৫০ জনকে হত্যা করে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।
Khan sir is absolutely right it’s time for action. India must consider #NavalBlockageForPakistan to cut off Pakistan supply. We all need to stand united against Pakistan and terrorism. #pahalgamattack #navalblockage pic.twitter.com/ic2TnxcR9k
— Explorer Vikram (@Vikramjangid99) April 24, 2025
‘সমুদ্র অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পাকিস্তান’
পাকিস্তানকে ‘দ্বিগুণ আঘাত’ দেওয়ার জন্য খান স্যার সমুদ্র অবরোধ করার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “ভারতের সমুদ্র অবরোধ করা উচিত। আমরা সমগ্র ভারতের জনগণকে সরকারের কাছে আবেদন করতে বলছি। যদি আমরা সমুদ্র অবরোধ করি তাহলে তাদের সম্পূর্ণ সরবরাহ লাইন কেটে দেওয়া হবে। পাকিস্তানের জ্বালানি মজুত মাত্র ৯ দিনের জন্য। সমুদ্র অবরোধের কারণে তার সমস্ত জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। আমরা কোনওভাবে সিন্ধু জল চুক্তি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত করে এবং নীচে থেকে সমুদ্র অবরোধ করে পাকিস্তানকে দ্বিগুণ আঘাত দিতে পারি।”
পহেলগাঁও হামলার পর যখন দেশজুড়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে, তখন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব খান স্যারের এই কৌশলগত পরামর্শগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং অনেকে এগুলিকে সমর্থনও করছেন। তবে এই ধরনের কৌশল কতটা বাস্তবসম্মত বা তার আন্তর্জাতিক প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।