ধ্বংস হল অভিযুক্ত জঙ্গির বাড়ি ! সেনাবাহিনী বাড়ি গুঁড়িয়ে দিতে কী বলল সন্দেহভাজন জঙ্গির বোন? বোনের বয়ানে চাঞ্চল্য

পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর গোটা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। ১৪০ কোটির দেশ চাইছে, নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের কড়া জবাব দিক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে সন্ত্রাসবাদীদের রেয়াত করা হবে না। এই আবহেই ভূস্বর্গে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনী। উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের বাড়ি বেছে বেছে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি পহেলগাঁওয়ের হামলার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন এক ‘মুজাহিদিন’ জঙ্গির বাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে সেনা। বাড়িটি এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু এই ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবার যে দাবি তুলেছে, তা নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রশ্ন উঠছে, অভিযুক্ত ‘মুজাহিদিন’ যে একজন সন্দেহভাজন জঙ্গি, সেই বিষয়ে তার পরিবার কি সত্যিই অবগত ছিল?

সন্দেহভাজন জঙ্গির বোনের বয়ানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ত্রালে তাদের বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্ণনা দিয়েছেন কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে: “উর্দি পরা এক ব্যক্তি বাড়ির উপরে বোমা সদৃশ কোনো বস্তু রেখেছিল। এরপর বাড়িটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়।” পরিবারের নির্দোষিতার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা নির্দোষ। তবুও আমাদের বাড়ি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।”

বোনের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁর পরিবারে তাঁর এক ভাই জেলে আছেন, অন্য ভাই হলেন এই অভিযুক্ত ‘মুজাহিদিন’, এছাড়াও তাঁর আরও দুই বোন এবং বাবা-মা রয়েছেন। তিনি জানান, “পরশু [দুই দিন আগে] থেকেই আমার পরিবারের লোকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কিন্তু আমি জানতাম না। আমি শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম, আমি কিছুই জানতাম না।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে আজ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে বলে আমি পরিবারের লোকজনকে ফোন করে জানিয়েছিলাম যে আমি আসব। যখন আমি শ্বশুরবাড়ি থেকে এখানে [নিজের বাড়িতে] এলাম, তখন আমি আমার বাবা-মা এবং ভাই-বোনদের তাদের বাড়িতে পেলাম না। সন্ধে ৬টায় পৌঁছে আমি এখানে কাউকে পেলাম না।”

নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, “পুলিশ বাড়ির সকলকে নিয়ে গেছে। আমার মাকেও নিয়ে গেছে, আমার দুই বোন এবং আমার বাবাকে তিন দিন আগেই নিয়ে গেছে।” বাড়ি ধ্বংস করার পূর্ব মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “যখন আমি এখানে বসে ছিলাম [সম্ভবত প্রতিবেশীর বাড়িতে], তখন নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা এসে আমাদের সকলকে বাড়ির বাইরে বের করে দিল। ওরা আমাকে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে যেতে বলেছে। ওরা বলছে, আপনি ওখানে চলে যান এবং বাড়িতে যত ছাগল-বেড়াল আছে সব বের করে দিন। সবকিছু বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”

ধ্বংসের মুহূর্তের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি জানান, “আমি এখান থেকে বসে দেখছিলাম যে একজন লোক বাড়ির গুদামের উপরে উঠে বোমা সদৃশ কোনো বস্তু রেখেছে। যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে সে নিজেই রেখেছে। অন্ধকার ছিল তাই আমি তার মুখ দেখতে পাইনি। কিন্তু একজনকে সেনার পোশাকে দেখেছিলাম।” বাড়ি থেকে কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি নিশ্চিত করেন, “আমার দুই বোন, যারা অবিবাহিত, আমার বাবা এবং আমার মা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সময় চারজনকে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল এবং বাড়িতে কেউ ছিল না।

পহেলগাঁও হামলায় তার ভাই জড়িত ছিল কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা কিছুই জানি না। সে যাক, সরকার যাক, তাদের কাজ, তাদের দায়িত্ব যে তারা আমার ভাইকে ধরবে। তারা কোথা থেকে ধরবে তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা পরিবারের লোকজন নির্দোষ। আমরা নির্দোষ।” তিনি আরও জানান যে পুরো বাড়িটি তাঁর তিন চাচার। এর মধ্যে শুধুমাত্র দুটি ঘর তাদের ছিল, কিন্তু পুরো বাড়িটিই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

যদিও পরিবার নির্দোষিতার দাবি করছে এবং এই ঘটনার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তবে সেনা সূত্র একপ্রকার নিশ্চিত যে গত ২২ তারিখের হত্যালীলার অন্যতম প্রধান চক্রী ছিল এই ‘মুজাহিদিন’। এই ঘটনা উপত্যকায় সন্ত্রাস দমনের জটিল দিকটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।