পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জের ! গুড়িয়ে দিল আরও দুই অভিযুক্ত জঙ্গির বাড়ি

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলার রেশ ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কড়া হাতে পদক্ষেপ করা শুরু করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তাবাহিনী। ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত জঙ্গিদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার আরও দুই সন্দেহভাজন জঙ্গির বাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী।

নিরাপত্তা আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সোপিয়ানের ছোটিপোড়া গ্রামে এক অভিযুক্ত জঙ্গির বাড়ি বিস্ফোরণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই বাড়িটির মালিক পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। শুধু সোপিয়ানেই নয়, এদিন কুলগাম জেলাতেও আরও এক সন্দেহভাজন জঙ্গির বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পহেলগাঁওয়ের হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত ওই জঙ্গির নাম জাকির আহমেদ গানি। সে কুলগামের মুতলহামার বাসিন্দা এবং ২০২৩ সাল থেকে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। নিরাপত্তা আধিকারিকদের অনুমান, পহেলগাঁওয়ের হামলায় তার সক্রিয় যোগদান ছিল।

উল্লেখ্য, কাশ্মীরজুড়ে জঙ্গি দমনের জন্য লাগাতার তল্লাশি অভিযান চলছে। তারই অংশ হিসেবে শুক্রবার লস্কর-ই-তৈবার দুই জঙ্গির বাড়ি বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। তাদের মধ্যে একজন আদিল হুসেন ঠোকার ওরফে আদিল গুরি এবং অন্যজন আসিফ সেখ। আসিফের বাড়ি অনন্তনাগের বিজবেড়া ব্লকে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের অনুমান, পহেলগাঁওয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সেও জড়িত। অনন্তনাগ পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় তার নাম রয়েছে। এমনকি, তার খোঁজ দেওয়ার জন্য পুলিশের তরফে ২০ লক্ষ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। অপর জঙ্গি আদিল হুসেন ঠোকারের বাড়ি পুলওয়ামার ত্রালে। জানা গেছে, আদিল ২০১৮ সালে পাকিস্তানে গিয়েছিল এবং সেখানে জঙ্গি হওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়ে গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে ফিরে আসে। শুক্রবার নিরাপত্তাবাহিনীর কর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এক বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই দুই জঙ্গির বাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ উপত্যকা থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানকেই প্রতিফলিত করছে।