কাশ্মীর হামলায় রক্তপাত, বাংলার ৩ জন নিহত ! ধর্মীয় হিংসার প্রতিবাদে উত্তাল ‘রাজ্য’, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক রাহুলের

কাশ্মীর উপত্যকা সম্প্রতি ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের তিনজন বাসিন্দা রয়েছেন। বিশেষ করে ধর্মীয় পরিচয় দেখে বেছে বেছে এই হত্যালীলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা বাংলা।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং বিজেপির যুব মোর্চা যেমন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পথে নেমেছে, তেমনই বামপন্থী সংগঠনগুলিও শুক্রবার প্রতিবাদ মিছিল করেছে। এই ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে এবং উপত্যকায় শান্তির সপক্ষে পথে নেমেছেন মুসলমান সম্প্রদায়ের বহু মানুষও। তাঁরা মানববন্ধন করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর উপত্যকার বর্তমান অবস্থা পরিদর্শনে যান কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। পহেলগাঁওয়ের হামলার পর তিনি সেখানে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান। রাহুল গান্ধী নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমবেদনা জানান। পাশাপাশি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদেরও তিনি সাক্ষাৎ করে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। শ্রীনগরে ফিরে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
উপত্যকায় ঘটে যাওয়া হামলার নেপথ্যের উদ্দেশ্য সম্পর্কে রাহুল গান্ধী বলেন, “সমাজকে দু’ভাগে ভাগ করার জন্যই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের লড়াই লাগিয়ে দেওয়ার চিন্তা থেকেই এই ঘটনা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “প্রত্যেক ভারতীয়র ঐক্যবদ্ধ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যাতে জঙ্গিরা যেটা করতে চেয়েছিল আমরা সেটাকে পরাস্ত করতে পারি।” জঙ্গিদের মূল লক্ষ্যকে ব্যর্থ করতে ভারতীয়দের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপরই জোর দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।