পহেলগাঁওয়ে নিরাপত্তায় চরম গলদ! বৈসরণ উপত্যকায় চারজন নিরস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী, উঠছে প্রশ্ন

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া নৃশংস জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তার চরম গলদ ছিল—এই বিষয়টি এবার কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সর্বদলীয় বৈঠকে স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে ভুল হওয়ার কথা মেনে নিয়েছেন। আর এই আবহে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য যে, বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাঁও বাজার এবং বৈসরণ উপত্যকার মধ্যে প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি রাস্তায় হামলার দিন কোনও সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ছিল না। ২২ এপ্রিলের ভয়াবহ হামলার সময়ও পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ক্যাডারের মাত্র চারজন নিরস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।

একজন আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৈসরণ উপত্যকার ভেতরে কোনও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনই করা হয়নি। অথচ পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ পর্যটকদের কাছে এক অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ‘মাস্ট ভিজিট প্লেস’, যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক যান। কিন্তু গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনীর অনুপস্থিতিতে সেই অপূর্ব সুন্দর জায়গাতেই ঘুরতে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন নিরীহ ভারতীয়, যাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৩ জন বাসিন্দা ছিলেন।

জানা গেছে, বৈসরণ উপত্যকার যে পর্যটন পুলিশ বিভাগের চারজন নিরস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, তাঁরা মূলত পর্যটকদের সহায়তা এবং পথ দেখানোর কাজ করে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতেও জানা গেছে, ওই ৪ জনের মধ্যে দু’জন বৈসরণ উপত্যকায় ৬ কিলোমিটার পথ যেখানে শুরু হয় অর্থাৎ পহেলগাঁও বাজারের কাছাকাছি মোতায়েন ছিলেন এবং অন্য দু’জন ছিলেন পথের শেষে উপত্যকার ভেতরে। পর্যটকরা সাধারণত পায়ে হেঁটে অথবা ঘোড়ায় চড়ে ওই মনোরম উপত্যকায় ভ্রমণ করেন।

স্পেশাল পুলিশ অফিসার (এসপিও) মুজাম্মিল আহমেদ এই নিরস্ত্র পর্যটন গার্ডদের বিষয়ে বলেন, “হামলার দিন আমাদের চারজন সহকর্মীকে বৈসরণ উপত্যকা যাওয়ার পথে মোতায়েন করা হয়েছিল। আমাদের অনেকেই পর্যটকদের সহায়তা, তাদের পথ দেখানোর জন্য এই দায়িত্ব পালন করেছি।” তিনি পর্যটকদের জন্য ওই ক্যাডারকে ‘বিশেষ পুলিশ বাহিনী’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যাদের মূল কাজই হলো পর্যটকদের সহায়তার জন্য মোতায়েন থাকা। এর নেতৃত্বে থাকেন একজন পুলিশ সুপার, যাকে ডেপুটি ডিরেক্টর ট্যুরিজম (এনফোর্সমেন্ট) হিসেবে মনোনীত করা হয়।

অন্যদিকে, পহেলগাঁও শহরের কাছেই কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ব্যাটালিয়ন এবং সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ইউনিটের সদর দফতর রয়েছে। কিন্তু শহর থেকে বৈসরণ উপত্যকায় যাওয়ার ওই পাহাড়ি রাস্তায় কোনও সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী ছিল না। পহেলগাঁও থেকে প্রাণ হাতে নিয়ে ফিরে আসা পর্যটকরাও একই কথা বলছেন। তাঁদের মতে, শ্রীনগর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ছিল, কিন্তু ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ খ্যাত বৈসরনে সেই নিরাপত্তা ছিল না। সে কারণেই জঙ্গিরা খুব সহজেই এই হত্যালীলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে। পহেলগাঁওয়ের ওই উঁচু উপত্যকায় যেহেতু বহু পর্যটক ছিলেন এবং সেখানে নিরাপত্তার বেষ্টনি ছিল না, সে কারণেই জঙ্গিরা ওই এলাকাকে হামলার জন্য বেছে নিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার পর বৃহস্পতিবার গোটা এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-র আধিকারিকরা পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং চারপাশ খতিয়ে দেখেন। তদন্ত এখনও চলছে।