বাগুইআটিতে কালো সুটকেসে মিলল মহিলার মৃতদেহ, বারাসতের বিলাসবহুল আবাসনে খুনের ছক?

চলতি মাসের ২১ তারিখ বাগুইআটি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কালো সুটকেস উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সুটকেসটি খুলতেই ভেতরে পাওয়া যায় এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মৃতদেহ। এই ঘটনার তদন্তে নেমেই পুলিশ সূত্র খুঁজে পায় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত শহরের এক বিলাসবহুল আবাসনের। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ওই আবাসনের ভিতরেই খুন করা হয়েছিল মহিলাকে।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বারাসতের ফরচুন হাইটস নামে একটি বহুতল আবাসনের ‘আই’ ব্লকের ১১০৯ নম্বর ফ্ল্যাটে ওই মহিলাকে খুন করা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিহত মহিলার নাম রিয়া ধর। জানা গেছে, মুর্শিদাবাদ থেকে চলে এসে রিয়া গত প্রায় ১০-১২ দিন ধরে ওই ফ্ল্যাটেই কৌশিক সেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে থাকছিলেন। এই কৌশিক সেনই মূল অভিযুক্ত বলে মনে করছে পুলিশ।
বারাসতের ফরচুন হাইটস একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত আবাসন। এখানে প্রবেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাইয়ের পর তবেই বাইরের লোককে ঢুকতে দেওয়া হয়। এমনকি আবাসনের ঠিক পাশেই বারাসত জেলা পুলিশের সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় অবস্থিত। এত কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং পুলিশের কার্যালয়ের এত কাছাকাছি থেকেও কীভাবে একটি সুটকেসভর্তি মৃতদেহ আবাসনের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো এবং বারাসত থেকে বাগুইআটি পর্যন্ত প্রায় ১০-১২ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিল, সেই প্রশ্নই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।
যদিও সূত্রের খবর, অভিযুক্ত কৌশিক সেনের ক্ষেত্রে অবশ্য আবাসনে ঢোকার সময় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে পড়তে হয়নি। তাঁর পরিবারের কেউ নাকি এই আবাসনের মুখ্য প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত, সেই কারণে তাঁকে নাকি কোনো পরিচয়পত্র ছাড়াই প্রবেশ করতে দেওয়া হতো। কিন্তু তার পরেও প্রশ্ন উঠছে – ঠিক কী কৌশলে বা কার সহায়তায় ওই মৃতদেহ ভর্তি সুটকেসটি আবাসনের বাইরে নিয়ে যাওয়া হলো? আবাসনের নিরাপত্তা কর্মীরা কি কিছু টের পাননি? নাকি অন্য কোনো পথে দেহ পাচার করা হয়েছিল? এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে অভিযুক্ত কৌশিক সেনের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, তিনি নাকি তাঁর বাবা-মায়ের ‘বিগড়ে যাওয়া সন্তান’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং এর আগেও তিনি একাধিক সমস্যা ও বিবাদে জড়িয়েছিলেন। তাঁর অতীতের সমস্যাগুলোই হয়তো আজকের এই পরিস্থিতির কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। এই ঘটনার পর ফরচুন হাইটস আবাসনের কোনো বাসিন্দা সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না, যা রহস্য আরও বাড়িয়েছে।
পুলিশ বর্তমানে মূল অভিযুক্ত কৌশিক সেনকে খুঁজছে এবং কীভাবে মৃতদেহটি ফরচুন হাইটসের মতো সুরক্ষিত আবাসন থেকে বের করে বাগুইআটি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলো, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।