Google-এর ‘ক্রোম’ কিনতে আগ্রহী ওপেনএআই, একাধিপত্য ভাঙতে অ্যান্টিট্রাস্ট মামলায় নজর

অনুসন্ধান বাজারে গুগলের বিশাল আধিপত্য ভাঙতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে এক চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব দিয়েছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই (OpenAI)। ওয়াশিংটনে গুগলের বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগের চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার শুনানিতে ওপেনএআই-এর প্রধান পণ্য কর্মকর্তা (Chief Product Officer) নিক টার্লি বলেছেন, যদি গুগলকে তাদের জনপ্রিয় ক্রোম (Chrome) ব্রাউজার বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে ওপেনএআই সেটি কিনে নিতে প্রস্তুত।

মার্কিন বিচার বিভাগ গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে তারা বিভিন্ন মোবাইল নির্মাতা এবং ব্রাউজার কোম্পানির সঙ্গে এমন সব চুক্তি করেছে, যার ফলে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন, ক্রোম ব্রাউজার এবং জেমিনি এআই অ্যাপ নতুন ফোনে ডিফল্ট হিসেবে থাকে। সরকারি আইনজীবীদের দাবি, গুগলের এই চর্চা প্রযুক্তি বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে গুগল কৃত্রিমভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। এই মামলার একটি পর্যায়ে বিচারক অমিত মেহতা ইতিমধ্যেই রায় দিয়েছেন যে, গুগলের এসব চুক্তি প্রযুক্তি বাজারে অন্যদের প্রবেশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে গুগলের এআই পণ্যগুলোকেও বাড়তি সুবিধা দেবে।

নিক টার্লির মতে, গুগলের অনুসন্ধান ও বিজ্ঞাপন বাজারে এই বিপুল আধিপত্য শুধু এআই উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয়, পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতার একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওপেনএআই মনে করে, ক্রোমের মতো একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম, যা কোটি কোটি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছনোর মাধ্যম, সেটি কিনে নিয়ে তারা ব্যবহারকারীদের জন্য সম্পূর্ণ এআই-ভিত্তিক একটি নতুন ধরনের সার্চ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারবে এবং সার্চ ইকোসিস্টেমে একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে।

যদিও বর্তমানে ওপেনএআই তাদের চ্যাটজিপিটি মডেলকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে তাদের এখনো গুগলের মতো বিশাল ডেটাবেস এবং সক্ষমতা অর্জন হয়নি। টার্লি জানিয়েছেন, এখনো চ্যাটজিপিটি প্রায় ৮০ শতাংশ সার্চ প্রশ্নের জবাব নিজস্ব প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে দিতে অক্ষম, যার জন্য তাকে বাইরের সার্চ ইঞ্জিনের উপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে চ্যাটজিপিটি মাইক্রোসফটের বিং সার্চ ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল।

টার্লি জানান, গত বছর জুলাইয়ে ওপেনএআই গুগলের সার্চ এপিআই ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তারা যুক্তি দিয়েছিল, বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে চ্যাটজিপিটিকে আরও কার্যকর এবং তথ্যবহুল করে তোলা সম্ভব। তবে গুগল আগস্ট মাসে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়।

ওপেনএআই মনে করছে, গুগলের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের ডেটা ও প্ল্যাটফর্মে সমান প্রবেশাধিকার না পাওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান ও এআই খাতে সত্যিকার অর্থে সমান প্রতিযোগিতা তৈরি হবে না। টার্লির ভাষায়, “আমরা চাই একটি উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক সার্চ ইকোসিস্টেম। আর সেটি গড়তে হলে গুগলের প্রভাব কাটাতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে গুগল ক্রোমকে আলাদা করে দিলে তা সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার শুনানির এই পর্যায়ে ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে ক্রোম কেনার এই আগ্রহ প্রকাশ প্রযুক্তি বিশ্ব এবং অনুসন্ধান ও এআই খাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গুগলকে ব্রাউজার বিক্রি করতে বাধ্য করা হবে কিনা, বা ওপেনএআই-এর প্রস্তাব কার্যকর হবে কিনা, তা সময়ই বলবে।