‘বিতানের বাবা-মাকে দেখতেন না সোহিনী’, পহেলগাঁওতে জঙ্গিদের হামলায় বিতানের স্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত কলকাতার বাসিন্দা বিতান অধিকারীর পরিবারকে নিয়ে করা ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ। বিতান অধিকারীর স্ত্রী সোহিনী অধিকারীর কয়েকটি মন্তব্য এবং তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ তাঁর ফেসবুক পোস্টে সরাসরি সোহিনী অধিকারীর বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, প্রথমে টিভিতে সোহিনী বলেছিলেন যে জঙ্গিরা বেছে বেছে হিন্দু বা মুসলমান মারেনি। কিন্তু পরে বিজেপি নেতাদের সামনে তিনি নাকি বলেন যে হিন্দু হওয়ার কারণেই তাঁর স্বামীকে মারা হয়েছে। কুণালের অভিযোগ, সোহিনীর এই বয়ান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং শেখানো সংলাপের মতো।
কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে বিতান অধিকারীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে বিতানের স্ত্রী সোহিনী তাঁদের সঙ্গে থাকতেন না বা দেখাশোনা করতেন না। এই পরিস্থিতিতে বিতানের বাবা-মা ঘোরতর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়েও সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ। তিনি দাবি জানান যে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার বিতান অধিকারীর পরিবারের জন্য কোনও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করলে, তা যেন শুধুমাত্র স্ত্রী সোহিনীকে একা দেওয়া না হয়। বিতানের বৃদ্ধ বাবা-মায়েরও সেই সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এবং তাঁদের কথা বিশেষভাবে ভাবা উচিত বলে তিনি মনে করেন। কুণাল বলেন যে শোকের বাতাবরণ থাকায় তিনি অপ্রিয় প্রশ্ন তুলতে চাননি, তবে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা বা নাটক দেখলে তিনি মুখ খুলবেনই।
প্রসঙ্গত, কলকাতার পাটুলির বাসিন্দা বিতান অধিকারী কর্মসূত্রে ফ্লোরিডায় কর্মরত ছিলেন। ছুটি কাটাতে দেশে ফিরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি কাশ্মীর বেড়াতে যান এবং সেখানেই সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান। ঘটনার পরদিন বিতানের স্ত্রী সোহিনী তাঁর নিথর দেহ নিয়ে কলকাতায় ফেরেন। বিমানবন্দরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সেখানে উপস্থিত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়। শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ্য করে সোহিনী বলেন যে তিনি তাঁদের (বিজেপি নেতাদের) ভরসাতেই ফিরেছেন। এই মন্তব্যের পরই কুণাল ঘোষের পোস্টটি সামনে আসে এবং বিতর্ক তৈরি হয়। শোকের এই আবহে কুণাল ঘোষের এমন মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এখন চরমে।