‘ভালো থেকো….’, বিয়ের ৬ দিনের মাথায় পহেলগাঁওতে নৌসেনা অফিসার স্বামীর মৃত্যু, কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্ত্রী

ভূস্বর্গ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত মঙ্গলবারের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় এক তরুণ নৌসেনা অফিসারের মর্মান্তিক মৃত্যু গোটা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মাত্র ছয় দিন আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়াল এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুনে কাশ্মীর গিয়েছিলেন তিনি, অথচ সেই আনন্দময় যাত্রাই পরিণত হলো চিরবিদায়ের পথে।
গত [বিয়ের তারিখ, যেমন ১৬ই এপ্রিল] তারিখে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়াল। নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে করে ঘুরতে গিয়েছিলেন কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায়। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরের অতর্কিত জঙ্গি হামলা তাদের সব স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। নিরীহ পর্যটকদের ওপর চালানো সেই হামলায় বিনয়ও সন্ত্রাসবাদীদের গুলির শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।
পহেলগাঁও থেকে লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়ালের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি [গ্রাম/শহরের নাম, রাজ্য]-এ পৌঁছানোর পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী, যাঁর হাতের মেহেন্দি ও সিঁদুর এখনও উজ্জ্বল, তিনি স্বামীর নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। শেষবারের মতো স্বামীকে বিদায় জানানোর সময় তার অশ্রুসিক্ত চোখ এবং চাপা কান্না উপস্থিত সকলের মন ভারাক্রান্ত করে তোলে। ‘ভালো থেকো…’ হয়তো এই কথাই নীরবে স্বামীকে বলছিলেন তিনি, এক নিমেষে ভেঙে যাওয়া সাজানো জীবনের সামনে দাঁড়িয়ে।
লেফটেন্যান্ট বিনয় নরওয়াল ভারতীয় নৌবাহিনীর একজন কর্তব্যপরায়ণ অফিসার ছিলেন। দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার আগেই সন্ত্রাসবাদের হাতে তাঁর জীবন কেড়ে নেওয়া হলো। বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় এই করুণ পরিণতি তাঁর পরিবার এবং সহকর্মীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। বিনয়ের এই আত্মত্যাগ দেশ চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।