নতুন আইনের দোহাই দিয়ে একের পর এক হিন্দু হত্যা! কি ছিল সেই আইন? জেনেনিন

কাশ্মীরের पहलগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলা উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ছবির মতো সুন্দর বৈসরণ উপত্যকায় নিরীহ পর্যটকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসবাদীরা। এই হামলার দায় স্বীকার করে লস্কর-ই-তৈবার শাখা সংগঠন টিআরএফ (The Resistance Front) জানিয়েছে, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং ৩৫এ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে কাশ্মীরের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং নতুন আবাসিক আইন কাশ্মীরীদের বিপন্ন করছে। তাদের মতে, এই হামলা তারই জবাব। কিন্তু সংবিধানের এই সংশোধনীতে ঠিক কী পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং জঙ্গিদের দাবি কতটা যুক্তিসঙ্গত?
সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ অনুচ্ছেদ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা:
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন মহারাজা হরি সিং স্বাধীন ভারতের সঙ্গে যোগ দেওয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর ১৯৪৯ সালে শেখ আবদুল্লার আলোচনার ভিত্তিতে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। এই বিশেষ মর্যাদার কারণে প্রতিরক্ষা, বিদেশ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে ভারতীয় আইন সরাসরি জম্মু ও কাশ্মীরে প্রযোজ্য হতো না।
সংবিধানের ৩৫এ অনুচ্ছেদ, যা ১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দাদের বিশেষ অধিকার প্রদান করত। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শুধুমাত্র রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারাই জম্মু ও কাশ্মীরে জমি বা অন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা লাভ করতে পারতেন। অন্য কোনো রাজ্যের বাসিন্দাদের সেখানে সম্পত্তি কেনার অধিকার ছিল না। এছাড়াও, সরকারি চাকরি এবং স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকারও কেবল স্থায়ী বাসিন্দাদেরই ছিল। এই ধারা বলে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা রাজ্যের ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ কারা এবং তাদের কী কী বিশেষ অধিকার থাকবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখত। বিশেষ করে, জম্মু ও কাশ্মীরের কোনো মহিলা রাজ্যের বাইরের কাউকে বিয়ে করলে তিনি সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন এবং তার উত্তরাধিকারীদেরও সম্পত্তির উপর কোনো অধিকার থাকত না।
৩৭০ ও ৩৫এ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং তার প্রভাব:
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়, যার ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ পায়। একইসঙ্গে ৩৫এ অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের সম্পত্তি কেনার পথ খুলে যায়।
জঙ্গিদের আপত্তি এবং তাদের যুক্তি:
জঙ্গিরা মূলত এই পরিবর্তন নিয়েই আপত্তি জানিয়েছে। টিআরএফ তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে যে সংবিধান সংশোধনের পর যে নতুন আবাসিক আইন চালু হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে কাশ্মীরের বাইরের লোকেরা উপত্যকায় এসে জমি কিনছে এবং এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার দাবি জানাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, জম্মু ও কাশ্মীরে মোতায়েন ভারতীয় সেনাবাহিনীকেও স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, ভিন রাজ্য থেকে আসা লোকেদের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের বরাত দেওয়া, স্থানীয় কাশ্মীরীদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা এবং বিভিন্ন অজুহাতে জমি অধিগ্রহণ করার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের অধিকারPahari-তে হস্তক্ষেপ করছে। জঙ্গিদের দাবি, এই হামলা তারই প্রতিবাদ এবং জবাব।
এই হামলা কাশ্মীরের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং উপত্যকার অর্থনীতি ও জনজীবনে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।