“I KILL YOU’, ISIS- Kashmir”-এবার জঙ্গিদের হুমকি মেল পেলেন গৌতম গম্ভীর

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করার পর এবার প্রাণনাশের হুমকি পেলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ এবং প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর। ইমেলের মাধ্যমে তাকে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। হুমকির নেপথ্যে জঙ্গি গোষ্ঠী ‘আইএসআইএস কাশ্মীর’ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করছে পুলিশ।
গৌতম গম্ভীরকে পাঠানো হুমকি ইমেলে সরাসরি লেখা হয়েছে, “আমি তোমাকে খুন করব।” এমন হুমকি মেল পেতেই গৌতম গম্ভীর দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টির গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে দিল্লি পুলিশ দ্রুত সক্রিয় হয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ইমেলটি কোথা থেকে এবং কে পাঠিয়েছে তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দিল্লি পুলিশের সাইবার সেল টিম ইমেলটির উৎস ট্র্যাক করার জন্য সব ধরনের প্রযুক্তিগত সাহায্য নিচ্ছে। তবে, এই মুহূর্তে ইমেল প্রেরণকারী সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গৌতম গম্ভীরের অফিস থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্রাক্তন এই ক্রিকেটারকে ‘আইএসআইএস কাশ্মীর’ থেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার তিনি দিল্লি পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
হুমকির গুরুত্ব বিবেচনা করে দিল্লি পুলিশ গৌতম গম্ভীর এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল গৌতম গম্ভীর দুবার ইমেলের মাধ্যমে হুমকি পান, একবার বিকেলে এবং অন্যবার সন্ধ্যায়।
উল্লেখ্য, এই ধরনের হুমকি গৌতম গম্ভীর প্রথমবার পেলেন এমন নয়। এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে যখন তিনি সাংসদ ছিলেন, তখনও তিনি একই রকম একটি ইমেল পেয়েছিলেন।
সম্প্রতি কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলায় নিরীহ পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। গত মঙ্গলবার তিনি নিজের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) এই বিষয়ে লেখেন, “নিহতদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি। এর জন্য যারা দায়ী তাদের এর মূল্য দিতে হবে। ভারত জবাব দেবে।” পহেলগাঁও হামলা নিয়ে গম্ভীরের এই মন্তব্যের পরই তিনি এই হুমকি পেলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচের মতো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে জঙ্গি গোষ্ঠীর নামে এই ধরনের হুমকি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ ঘটনার তদন্তে গতি এনেছে এবং গম্ভীরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।