পহেলগাঁও হামলার পর থমথমে উপত্যকা, নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি, কাশ্মীরিদের প্রতিবাদে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর গোটা উপত্যকা এখন নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। ২৬ জন নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই হামলার পর কাশ্মীরজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। চলছে জোরদার চিরুনি তল্লাশি এবং ড্রোনের মাধ্যমে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা। জঙ্গি হামলার পর ভূ-স্বর্গ যেন একেবারে শুনশান।

জঙ্গি হামলায় মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হওয়া পহেলগাঁও থেকে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা নিয়ে দলে দলে ফিরে যাচ্ছেন পর্যটকরা। গতকালের জঙ্গি হানায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। আজ গোটা এলাকা শুনশান, দোকানপাট বন্ধ। বৈসরণ যাওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ ফাঁকা। ভারতীয় সেনাবাহিনী বাড়ি বাড়ি ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছে। পহেলগাঁওয়ের জঙ্গলে রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফ এবং জম্মু কাশ্মীর পুলিশ যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। আকাশপথেও নজরদারি চলছে, উড়ছে চপার। পহেলগাঁওয়ের প্রবেশ পথে রয়েছে সিআরপিএফ-এর কড়া চেকিং পয়েন্ট। বারামুলায় প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে। অনন্তনাগেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত আঁটসাঁট করা হয়েছে। জঙ্গিদের খোঁজে গোটা কাশ্মীরজুড়েই চলছে চিরুনি তল্লাশি।

পর্যটকশূন্য কাশ্মীরের এই ছবি স্থানীয়দের ব্যথিত করছে। এই আবহে ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছেন কাশ্মীর বাসীদের একাংশ। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করছেন তাঁরা। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁরা মোমবাতি মিছিল করেছিলেন। আজ ডাল লেকের পাশে প্রতিবাদ মিছিল করেন বোট ওনার্সরা। তাঁরা বলেছেন, “পর্যটকরা আমাদের ভগবান।” রীতিমতো পোস্টার হাতে নিয়ে তাঁরা এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।

এদিকে কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় মৃত্যুমিছিলের ঘটনার পর জম্মু কাশ্মীর পুলিশ পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে সন্দেহভাজন তিন জঙ্গির স্কেচ প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত স্কেচগুলো আসিফ ফৌজি, সুলেমান শা এবং আবু তালহার। সূত্রের খবর, পর্যটকদের ওপর গুলি চালিয়েছিল চার জঙ্গি, এবং আরও তিন জঙ্গি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিল। এদের মধ্যে আদিল গুরু নামে এক পাক জঙ্গি কয়েক বছর আগে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করেছিল এবং ২০১৮ সালে পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছিল। হামলাকারী জঙ্গিদের মধ্যে একজনের নাম আসিফ শেখ। আদিল ও আসিফের সঙ্গে আরও দুই পাক জঙ্গি ছিল বলে জানা গেছে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)।

সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে এও জানা গেছে যে, হামলাকারী জঙ্গিদের হেলমেটে ক্যামেরা লাগানো ছিল। তারা নিজেরাই হামলার ভিডিও করে তাদের চক্রীদের পাঠাচ্ছিল। তিন জঙ্গির কাজ ছিল মূলত পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা করে তাদের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। পর্যটকদের ওপর স্নাইপার হামলাও চালানো হয়েছে। জঙ্গিরা রীতিমতো রেকি করেই বৈসরণ উপত্যকাকে হামলার স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিল, যাতে দুর্গমতার কারণে উদ্ধারকাজ শুরু হতে দেরি হয় এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ে।