পহেলগাঁও হিন্দু-নিধন – মুখ খুললেন সামি-সিরাজ, জানালেন তীব্র ঘৃণা ও সমবেদনা

অতীতে মহম্মদ সিরাজ ও মহম্মদ সামি যখন টিম ইন্ডিয়ার হয়ে খারাপ পারফর্ম করেছেন, তখন তাঁদের অনেক কটু কথা ও বক্রোক্তি শুনতে হয়েছে। তাঁরা বরাবরই আলোচনায় থাকেন। এবার কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা দেখে মুখ খুলেছেন ভারতীয় দলের এই দুই তারকা ক্রিকেটার।

ভূস্বর্গ নিরাপদ, এই ভাবনা নিয়ে যে পর্যটকরা সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন, তাঁদের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ কল্পনা করতে পারেননি। মঙ্গলবার কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গিরা নৃশংস ভাবে নিরীহ পর্যটকদের হত্যা করেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, নাম, পরিচয় জানার পর বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের গুলি করে মারা হয়েছে। বহু পর্যটক চোখের সামনে তাঁদের পরিজনদের ঝাঁঝরা হয়ে যেতে দেখেছেন। এই ঘটনায় দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সৌরভ গাঙ্গুলী, শচীন টেন্ডুলকার, গৌতম গম্ভীর সহ ভারতীয় ক্রিকেট জগতের একাধিক তারকা ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভারত সরকার যে কড়া পদক্ষেপ নেবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের কথায় তা স্পষ্ট। এই আবহের মধ্যেই মঙ্গলবারের সন্ত্রাসবাদী হামলা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতীয় টিমের দুই সদস্য মহম্মদ সিরাজ ও মহম্মদ সামি।

টিম ইন্ডিয়ার এই দুই জনপ্রিয় ক্রিকেটার কী বলছেন?

সিরাজ তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘এই মাত্র পহেলগাঁওতে ভয়ঙ্কর, মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার খবর পেলাম। দেশের নিরীহ নাগরিকদের ধর্মের নাম করে মেরে ফেলাটা অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা। কোনও কারণ, কোনও বিশ্বাস, কোনও আদর্শ এই রকম দানবীয় হত্যাকাণ্ডের ব্যাখ্যা হতে পারে না। এ কেমন লড়াই… যেখানে মানুষের জীবনের বিন্দুমাত্র মূল্য নেই…।’

সিরাজ এরপর কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় নিহতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি আরও লেখেন, ‘নিহতদের পরিবার যে ঠিক কোন যন্ত্রণা এবং অবসাদের মধ্যে রয়েছে, সেটা কল্পনাও করতে পারছি না। তাঁরা যেন এই অসহনীয় শোক সহ্য করতে পারেন। আমরা এই ক্ষতির জন্য অত্যন্ত দুঃখিত। আমি চাই এই নারকীয়তা দ্রুত যেন শেষ হয়। জঙ্গিরা যেন দ্রুত ধরা পড়ে। আর কোনও ক্ষমা নয়, তাদের যেন উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়।’

সিরাজের মতো মহম্মদ সামিও সরব হয়েছেন। ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে তিনি একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘পর্যটকরা এখানে সৌন্দর্য ও শান্তি খুঁজতে আসেন। সন্ত্রাসবাদ নয়। পহেলগাঁওয়ে যে জঙ্গি হামলা হয়েছে তা হৃদয়বিদারক এবং অমানবিক। নিহত এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য কষ্ট হচ্ছে। তাঁদের সমবেদনা জানাই।’

উল্লেখ্য, কাশ্মীরে এই টার্গেট কিলিংয়ের দায় স্বীকার করেছে টিআরএফ, যা পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবার একটি ছায়া সংগঠন। এখনও পর্যন্ত যা খবর, তাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮।