“২৬ নির্বাচনে আমরাও খেলব, উইকেট ফেলব”-ব্রিগেড থেকে হুঙ্কার মহিলা বক্তা বন্যা টুডুর

শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর ও বস্তি সংগঠনের ডাকে ব্রিগেডের মঞ্চে সিপিএমের খেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বন্যা টুডু প্রত্যাশিতভাবেই ঝড় তুললেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারকে বিভিন্ন ইস্যুতে একযোগে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা, পাট্টা-সহ একাধিক ইস্যু উঠে আসে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন তিনি।
বন্যা বলেন, “আমরা ভালো থাকতে পারি না। দুটো সরকার চলছে। একটা চোরের সরকার, আর একটা ডাকাতের সরকার। তাই আমরা ভালো নেই। বুনো হাতি তাড়ানোর মতো আমাদের এই মুখ্যমন্ত্রীকে তাড়াতে হবে। না হলে আমরা বাঁচতে পারব না। মেদিনীপুরে জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের লড়াই দিন আনা দিন খাওয়া, খেটে খাওয়া মানুষদের লড়াই। শহরের মানুষরা আমাদের কথা জানেন না। গ্রামের মানুষরাও জানেন না শহরের মানুষের কথা। গ্রামের যারা খেটে খায়, তাদের রোজ ১৫০ টাকা আর ২ কেজি চাল।”
২০১১ সালে দেওয়া পাট্টা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বন্যা। তিনি বলেন, “ভূমিহীনদের জমি দেওয়া হয়েছিল ২০১১ সালে। সেই জমি লুট করতে শুরু করেছে।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিপিএম-সহ বাম দলগুলির ব্রিগেডে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ভিড় হলেও, তা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয় না। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, ব্রিগেডে আসা লোকজন বিজেপিকে ভোট দেয়। এর জবাবে বন্যা বলেন, “সবাই বলছে ব্রিগেডে লোক জড়ো হয়, ভোট বাক্সে পড়ে না। আর নয়। এবার মানুষ দেখিয়ে দেবে। আমরা কোনো অত্যাচার সহ্য করব না। ১০০ দিনের কাজকে ২০০ দিন করব। আমরা নরেন্দ্র মোদীর কাছে দিল্লি যাব। টাকা দাও, না হলে কাজ দাও। কাজ নিয়ে লড়াই হবে। আমরা আর অত্যাচার সহ্য করব না।”
আরজি কর কাণ্ড ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কটাক্ষ করে খেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বলেন, “আজকে ব্রিগেড ভরিয়ে দিয়েছেন মা-বোনেরা, আমরা কাজ করতে চাই। যুব সমাজের কী হয়েছে? এত চুরি করছে যে দিদিমণি কিছু বলতে পারছেন না। চাকরি চাওয়া লোককে বলছে মাকে বলো চপ করে দিতে। চপ বেচে কি দোতলা ও তিনতলা বাড়ি হবে? চপ বিক্রি করে নাকি ঘর হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই। আমরা নিজেরা দেখব, তবেই করব। বুথে লড়াই করতে হবে। আমাদের ভয় পেলে হবে না। বুকের পাটা আর হাতের কব্জি শক্ত করতে হবে। আবাস যোজনা বন্ধ নিয়ে দিদি বলছেন ডাবল উন্নয়ন হচ্ছে। লক্ষ্মীদের যেখানে সম্মান থাকে না, লক্ষ্মীরা ধর্ষিতা হচ্ছে। আরজি করে কী হয়েছে? লক্ষ্মীদের সম্মান চলে যাচ্ছে, আর তিনি টাকা ধরিয়ে দিচ্ছেন। বলছেন, খেলা হবে। আমরাও বলছি খেলা আমরাও করব। ২৬-এর নির্বাচনে আমরা উইকেট ফেলব। আমরা খেলা দেখিয়ে দেব। প্রতিটি বুথে আমরা বসব।”
বন্যা টুডু কে?
সিপিএমের খেতমজুর সংগঠনের নেত্রী বন্যা টুডু হুগলির গুড়াপ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান। গুড়াপের চেরাগ্রাম লহরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা বন্যার পরিবারে স্বামী, ছেলে ও বউমা রয়েছেন। ২০০১ সালে বাম রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। এরপর মহিলা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। কৃষক সমিতিতেও কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে খেতমজুর সংগঠনের নেত্রী হিসেবে পরিচিত হন।