“১৪ তলা থেকে মাটিতে টেনে নামাব”-ব্রিগেড থেকে ২০২৬ -এর রোডম্যাপ তৈরী সেলিমের

ভোটের এখনও অনেক দেরি। তার আগেই বামেরা শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতী মানুষদের ব্রিগেড সমাবেশ ডেকেছে। শ্রমিক, কৃষক, খেতমজুর ও বস্তি ফেডারেশনের ডাকে এই ব্রিগেড সমাবেশে সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তৃণমূল ও কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করেন।
বক্তব্যে সেলিম বলেন, “যাঁরা দূরবীন দিয়েও লাল ঝান্ডা দেখতে পাচ্ছিলেন না, এই ব্রিগেড তাঁদের বুকে কাঁপন ধরাবে। কাজের জায়গা ছোট হয়ে আসছে। কেন্দ্র ও রাজ্য কোথাও নিয়োগ হচ্ছে না। যেখানে নিয়োগ হচ্ছে, সেখানে দুর্নীতির পাহাড়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২৬ হাজার মানুষের চাকরি গেছে। আমাদের দাবি, সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ালে পুলিশকে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। না হলে রাজ্যের সব থানায় আমরা এফআইআর করব। লাল ঝান্ডা কোনো কাপড়ের টুকরো নয়। চিটফান্ডের টাকা দিয়ে এটা কেনা হয়নি। এত রোদে লক্ষ লক্ষ মানুষ কীভাবে বসবেন, অনেকে চিন্তা করছিলেন। কিন্তু প্রকৃতিও আমাদের সহায়। তপ্ত রোদ ওঠেনি। আমি মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও সুতিতে গিয়েছিলাম। কোথাও পুলিশের গুলিতে, কোথাও হামলাকারীদের আক্রমণে মানুষ মারা গেছেন। আমি তাঁদের কাছে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে গিয়েছিলাম। হিংসা দেখলে ডান্ডাগুলোকে মোটা করতে হবে। দেশ বাঁচাতে হলে আবার লাল ঝান্ডাকে মজবুত করতে হবে।”
সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক আরও বলেন, “মুর্শিদাবাদে যা হলো, রামনবমী, ঈদ, জুম্মার নামাজ, হনুমান জয়ন্তীতে খালি দেখলাম এ বলে গুঁড়িয়ে দেব, ও বলে গুঁড়িয়ে দেব। আসলে কেউই কিছু করছে না। বিজেপি ও তৃণমূল নেতাদের স্ক্রিপ্ট একজনই লিখেছেন মোহন ভগবত। উনি কয়েকদিন আগে এখানে এসেছিলেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূলকে কী করতে হবে, উনি বলে দিয়েছেন। বিরোধী দলের নেতা তৃণমূলের সাজানো আছে। উনি এখন মহান সাজতে চাইছেন। যারা ঘৃণার ভাষণ দিচ্ছে, কেন পুলিশ মামলা করছে না? না হলে আমরা গোটা রাজ্যজুড়ে এফআইআর করব। চিট ফান্ডের টাকা দিয়ে লাল ঝান্ডা কেনা হয়নি। আমাদের কর্মীদের জন্য কোনো এসি ক্যাম্প করতে হয়নি, কোনো খাবারের ব্যবস্থাও নেই। মিডিয়া ভাবছিল লোক হবে কি না, কিন্তু হয়েছে। প্রকৃতি আমাদের সহায়।”
যাঁরা বলেছিল সিপিএম শেষ, তাঁদের উদ্দেশে সেলিম বলেন, “আমরা আছি। আধপেটা খেয়েও আমার কর্মীরা লাল ঝান্ডা ছাড়েনি। আমাদের নীতি ও আদর্শ আছে। আমি ফুটবল পছন্দ করি, একটু নেমে খেলতে হয়। আমাদের একটু নেমে খেলতে হবে, যাতে চোরগুলোকে টেনে নামাতে পারি। গরিবের লড়াই গরিবকেই লড়তে হবে। মোদী বলছেন ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’, এখন হচ্ছে ‘ধরে ধরে সবকা বিনাশ’। ব্রিগেড মঞ্চে বন্যা টুডু সম্পর্কে সেলিম বলেন, “বন্যা লড়াইয়ের ময়দান থেকে উঠে এসেছে। আমাদের নেতানেত্রী টালিগঞ্জ বা বলিউড থেকে উঠে আসে না। শ্রমিক ও কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছেন। ক্রিকেটের ভাষায় ও বলেছে, উইকেট ফেলে দেবে। তার জন্য ফুটবলের ভাষায় ‘নেমে খেলতে হবে’, যাতে দুর্নীতিবাজদের চোদ্দো তলা থেকে মাটিতে টেনে নামাতে পারি।”
সেলিম বলেন, “লাল ঝান্ডা শুধু একটা কাপড়ের টুকরো নয়। এই পতাকা চিটফান্ডের টাকা দিয়ে কেনা হয়নি।” এরপর রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে পরামর্শ দিয়ে বলেন, “সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ালে পুলিশকে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। না হলে রাজ্যের সব থানায় আমরা এফআইআর করব।” দাঙ্গা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুর্শিদাবাদ প্রসঙ্গ টেনে এনে সেলিম জানান, “আমি মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও সুতিতে গিয়েছিলাম। কোথাও পুলিশের গুলিতে, কোথাও হামলাকারীদের আক্রমণে মানুষ মারা গেছেন।” সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে তিনি বলেন, “হিংসা দেখলে ডান্ডাগুলোকে মোটা করতে হবে। দেশ বাঁচাতে হলে আবার লাল ঝান্ডাকে মজবুত করতে হবে।”
ব্রিগেড মঞ্চ থেকে মুর্শিদাবাদ প্রসঙ্গ তুলে সেলিম বলেন, “দুর্নীতিবাজদের চোদ্দো তলা থেকে মাটিতে টেনে নামানোর শপথ নিতে হবে আমাদের। গরিব মানুষের লড়াই স্যুট-বুট পরা লাট-বেলাট লড়তে পারবে না, গরিবকেই লড়তে হবে। বাঁচতে গেলে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে লড়তে হবে। লড়াইকে আমরা ভয় পাই না, কিন্তু সেই লড়াই মন্দির-মসজিদকে ঘিরে নয়। ধর্মের নামে যারা ব্যবসা করে, বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমরা মুর্শিদাবাদকে বাংলাদেশের মতো সংখ্যালঘু নিধনের জায়গা হতে দিতে পারি না। লড়ে যাওয়ার শপথ নিতে হবে তাই। আমাদের লড়াই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজ, মা-বোনের ইজ্জত রক্ষা ও সম্প্রীতির জন্য। তৃণমূল ও বিজেপির হাতে বাংলার সর্বনাশ হতে দেব না। সব ধর্মের অধিকার রক্ষা করে সরকার চালাতে হবে। এখন তো সরকারই বলছে মন্দির-মসজিদ চালাবে। আগে ট্রেনটা ভাল করে চালাক। কেন্দ্র ট্রেন বেচে দিচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার ট্রাম বেচে দিচ্ছেন। আসলে তৃণমূল ও বিজেপির স্ক্রিপ্ট এক, তা লেখা হয়েছে নাগপুরে। লিখে দিয়েছেন মোহন ভাগবত।” সেলিম আরও বলেন, “ওয়াকফ সংশোধন নিয়ে গোটা দেশে প্রতিবাদ হচ্ছে, শুধু বিজেপি ও তৃণমূলের পাঁচ-ছ’জন সাংসদ ছাড়া। কোথাও তো অশান্তি হচ্ছে না, এখানে হল কেন? মুর্শিদাবাদে যাঁরা খুন হয়েছেন, তাঁদের সমস্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা চাই বিচারবিভাগীয় তদন্ত হোক। কারা ষড়যন্ত্র করল, নেপথ্যে কারা ছিল, সব বেরিয়ে আসবে। বহিরাগতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। তারা ভিতরে ঢুকলেন কীভাবে? আমি বলব, হিন্দু ও মুসলমান লড়াই কোরো না। লড়তে হয় বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়ো। ছাব্বিশের লড়াইয়ের শুরু এখান থেকেই হোক। গ্রামে গ্রামে এই লড়াই ছড়িয়ে দিতে হবে।”