ভিডিও বানাতে গিয়ে খরস্রোতা ভাগীরথীতে তলিয়ে গেলেন নেপালী মহিলা

উত্তরকাশীতে এক মর্মান্তিক ঘটনা! ভাগীরথী নদীর তীরে ভিডিও বানাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত খরস্রোতা জলে তলিয়ে গেলেন ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলা। এই ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, নেপালের বাসিন্দা বিশেষ্ঠা নামের ওই মহিলা তাঁর মেয়ের সঙ্গে দেরাদুনের উত্তরকাশী জেলার মণিকর্ণিকা ঘাটে গিয়েছিলেন। মেয়েটির হাতে ছিল ফোন, আর মা ব্যস্ত ছিলেন ভিডিও রিল বানাতে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ভিডিও শ্যুট করার জন্য বিশেষ্ঠা নদীর জলে কিছুটা নামেন। ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি – তিনি আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই খরস্রোতা নদীর প্রবল ঢেউ তাঁকে টেনে নিয়ে যায়। মেয়ে তাঁর মায়ের এই ভয়ংকর পরিণতি ক্যামেরাবন্দী করছিল। যখন সে দেখে তার মা স্রোতের তোড়ে ভেসে যাচ্ছেন, তলিয়ে যাচ্ছেন, তখন ঘাটের পাড় থেকে আর্তনাদ করে ওঠে – “মা!” কিন্তু সেই চিৎকার নদীর তীরে কেবলই প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF) দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে। নদীতে নৌকা নামানো হয়, উদ্ধারকারী দল নদীর প্রতিটি কোণ তন্ন-তন্ন করে খুঁজে দেখে, এমনকি যোশীওয়াড়া বাঁধের কাছাকাছি এলাকাতেও সারা দিন ধরে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই মহিলার কোনও সন্ধান মেলেনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিশেষ্ঠা তাঁর মেয়েকে নিয়ে ভাগীরথীর উৎপত্তিস্থলে গিয়েছিলেন এবং সামান্য জলে নেমেছিলেন। সম্ভবত পা পিছলেই তিনি নদীর স্রোতে ভেসে যান। ১১ বছর বয়সী মেয়ের চোখের সামনেই ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল ভিডিও বানানোর সময় নিরাপত্তা কতটা জরুরি। গত বছর জুলাই মাসেও মহারাষ্ট্রের রায়গড়ে একইভাবে ভিডিও শ্যুট করতে গিয়ে খাদে পড়ে প্রাণ হারান ২৬ বছর বয়সী এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার। আনভি কামদার নামের সেই তরুণী বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে একটি ভিডিও তৈরির সময় গভীর খাদে পড়ে মারা যান। এই ধরনের ঘটনাগুলো আমাদের আরও সতর্ক করে তোলে।