NVIDIA: ৫৫০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতির খবরে এনভিডিয়ার শেয়ারে ধস, উদ্বিগ্ন লগ্নিকারীরা

মার্কিন রপ্তানি নীতি কঠোর হওয়ায় এনভিডিয়ার শেয়ারে ধস, সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা

মার্কিন সরকার চীনে রপ্তানি নীতিমালা আরও কঠোর করায় কম্পিউটার চিপ প্রস্তুতকারক জায়ান্ট এনভিডিয়ার শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। খবর প্রকাশের পর কোম্পানিটির শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে, যার ফলে সাড়ে পাঁচশ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর নীতিমালার কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু এনভিডিয়ার ‘এইচ২০ এআই’ চিপ চীনে রপ্তানি করতে লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে। এই চিপটি এনভিডিয়ার সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন পণ্যগুলির মধ্যে অন্যতম। এই নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ, যেখানে উভয় দেশই একে অপরের পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে।

বুধবার এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। মঙ্গলবার কোম্পানিটি জানায়, মার্কিন সরকার গত সপ্তাহে তাদের ‘এইচ২০ চিপ’ হংকং সহ চীনের কাছে বিক্রির জন্য অনুমতি নিতে বলেছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে লাইসেন্সের এই প্রয়োজনীয়তা “অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর” থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও এনভিডিয়া কোনো সাড়া দেয়নি।

প্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর মার্ক আইনস্টাইন বলেছেন, এনভিডিয়ার অনুমিত সাড়ে পাঁচশ কোটি ডলার ক্ষতির পরিমাণ তার ধারণার সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ। তবে তিনি যোগ করেন, “এটি অবশ্যই বড় অঙ্কের অর্থ, তবে এত বেশি নয় যা এনভিডিয়া বহন করতে পারবে না।”

আইনস্টাইন আরও মনে করেন, “গত কয়েক দিন ও সপ্তাহগুলোতে আমরা যা দেখেছি, এটি মূলত আলোচনার কৌশল হতে পারে। অদূর ভবিষ্যতে শুল্ক নীতিতে কিছু ছাড় বা পরিবর্তন দেখলে আমি অবাক হব না। কারণ এটি কেবল এনভিডিয়ার উপরই প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের উপরও প্রভাব ফেলবে।”

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এনভিডিয়া মূলত কম্পিউটার গেমের জন্য গ্রাফিক্স চিপ তৈরির মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে। বিবিসি লিখেছে, এআই বিপ্লবের অনেক আগে থেকেই তাদের তৈরি বিভিন্ন চিপে এমন বৈশিষ্ট্য যোগ করতে শুরু করে যা মেশিন লার্নিংয়ে সহায়তা করতে পারে। বর্তমানে এনভিডিয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রবর্তিত ‘পারস্পরিক’ শুল্কের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা। শুক্রবার হোয়াইট হাউস স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল, যার মধ্যে চীনা আমদানির উপর আরোপিত ১২৫ শতাংশ শুল্কও ছিল। তবে একদিনের ব্যবধানে ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং ঘোষণা করেন যে এই পণ্যগুলিকে অন্য একটি শুল্কনীতির আওতায় আনা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, শীঘ্রই তিনি আমদানি করা সেমিকন্ডাকটরের জন্যও শুল্ক হার ঘোষণা করবেন।

তিনি আরও বলেন, “চিপ, সেমিকন্ডাক্টর সহ অন্যান্য জিনিস আমরা আমাদের দেশেই তৈরি করতে চাই।” ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা, যুক্তরাষ্ট্র চীনের মতো অন্য কোনো দেশের কাছে ‘জিম্মি’ থাকতে চায় না।