ঘরছাড়ারা ফিরেছে ঘরে, দাবি কল্যাণের! মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ হিংসা নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল হাইকোর্ট

মুর্শিদাবাদে সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা ও এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। হিংসার জেরে অন্তত তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন, বহু সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে এবং ঘরছাড়া হয়েছেন বহু মানুষ।
আইনজীবী তথা বিজেপি নেত্রী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল ও আইনজীবী সংযুক্তা সামন্ত মুর্শিদাবাদে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ এবং কমিটি গঠনের দাবিতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের নির্দেশে বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
তবে, হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মামলায় এখনই এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন নেই। যদিও আদালত জানিয়েছে, কেন্দ্র চাইলে নিজস্ব ক্ষমতা বলে এনআইএকে তদন্তভার দিতেই পারে। কিন্তু, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই কমিটি হিংসার কারণে ঘরছাড়া মানুষদের চিহ্নিত করবে। পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির হিসেব করবে এবং এই ঘটনায় কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে। কেউ এফআইআর করতে অক্ষম হলে, তাদের আইনি সহায়তাও প্রদান করবে এই কমিটি।
আদালতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, হিংসার জেরে ৩৮টি পরিবার ঘরছাড়া হলেও, তারা সকলেই নাকি ইতিমধ্যেই নিজেদের বাড়িতে ফিরে এসেছেন। এছাড়াও, পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে ঘটনার তদন্ত করছে। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ২৭৪ জনকে এবং মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকার সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে বলেও তিনি হাইকোর্টে জানান।
বিজেপি নেত্রী তথা আইনজীবী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল মালদায় গিয়ে ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। উচ্চ আদালত এই আবহে তাঁকে মালদায় যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।