ফের শিরোনামে টলিউড, পরিচালকের শ্যুটিং বন্ধ, টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অস্থিরতা যেন কিছুতেই থামছে না। একের পর এক পরিচালকের শ্যুটিং বন্ধ হওয়ার ঘটনা ফের ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, শ্রীজিৎ রায়ের পর এবার টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতার শিকার হলেন পরিচালক সুদেষ্ণা রায়। বুধবার শ্যুটিং ফ্লোর থেকে ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচারে এসে ক্ষোভ উগরে দেন অসহায় এই পরিচালক।
সুদেষ্ণা রায়ের নতুন ছবি ‘স্বপ্ন হলেও সত্যি’-র শ্যুটিং আগামী শুক্রবার উত্তর কলকাতার একটি বাড়িতে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতার কারণে সেই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরিচালকের দীর্ঘ ২০ বছরের পুরনো প্রোডাকশন ম্যানেজার শ্যুটিং শুরুর মাত্র ছয় দিন আগে হঠাৎ করেই কাজ থেকে সরে দাঁড়ান। প্রোডাকশন ম্যানেজার যে গিল্ডের সদস্য, সেই গিল্ড এবং ফেডারেশনকে মেল করে সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানান সুদেষ্ণা। অভিযোগ, মেলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানোর পরই একে একে তাঁর আগামী ছবির সঙ্গে যুক্ত বাকি টেকনিশিয়ানরাও কাজ করতে অপারগতা জানান।
লাইভ সম্প্রচারে এসে সুদেষ্ণা রায় বলেন, “আজ সেটে আমাদের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। আমার নতুন ছবি ‘স্বপ্ন হলেও সত্যি’-র শ্যুটিং শুরু হচ্ছে ১৮ তারিখ থেকে। যদিও এটা স্বপ্ন তো নয়, যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে আমাদের জন্য। উত্তর কলকাতার যে বাড়িতে আমরা শ্যুটিং করব, আমরা সেখানে এসেছি। কিন্তু এখানে কেউ আসেনি। তার কারণ হচ্ছে, গত এক মাস ধরে আমি যাদের সঙ্গে কাজ করেছি, যারা আমার টিম, যাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা আমার সঙ্গে দু’বছর ধরে কাজ করছেন, তাঁরা আসেননি। আমার প্রোডাকশন ম্যানেজার কোনও বিশেষ কারণ না জানিয়ে, ছয় দিন আগে এই প্রোজেক্ট থেকে সরে যান। তাঁর সঙ্গে আমি বহু কাজ করেছি। তিনি আমার বন্ধু, আমার সব জানেন, আমার পাশে দাঁড়ান। কিন্তু কী কারণে যে ওঁকে এখান থেকে চলে যেতে হয়েছে তা জানি না।”
সুদেষ্ণা আরও বলেন, “এরপর আমাদের আর্ট ডিরেক্টর একই দিনে বলেন সে কাজটা করতে পারবে না। এরপর আমাদের পাঠানো লিস্টের সমস্ত সদস্যরাই, যা গিল্ডের মেম্বার একে একে আমাদের জানায় যে, তাঁরা কাজ করতে পারছেন না। এর কারণ কেউ বলেননি আমাদের। আজ আমাদের সেট ও পোশাকের কাজ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু সেই কাজ ভেস্তে গেল। আমার কাজে আমি বাধা পাচ্ছি। মহামান্য আদালত আদেশ দিয়েছে, কারও কাজে যেন বাধা সৃষ্টি না হয়। আমার লুক সেট হয়ে গেছে। আরও কাজ এগিয়ে গেছে। কিন্তু কেন তাঁরা বয়কট করছেন, এটা কেউ খোলসা করে বলতে পারছে না।”
পরিচালক আরও যোগ করেন, “এই ঘটনার জেরে আমার ও আমার প্রযোজকের শুধু ক্ষতি হয়েছে তা নয়। আমি মানসিকভাবে খুব আঘাত পেয়েছি। আমার কী দোষ আমি বুঝলাম না। হ্যাঁ, আমি কিছু প্রশ্ন তুলেছিলাম। তবে সেজন্য এভাবে শেষ মুহূর্তে এভাবে সরে দাঁড়ানোর জন্য গোটা প্রোজেক্টটা নষ্ট হচ্ছে। আমি মর্মাহত এবং আশাহত। আশা করব এই সমস্যার কোনও সমাধান হবে।”
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাস নাগাদ পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের ছবির শ্যুটিং বন্ধ হওয়া নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল টলিউড। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই সমস্যার সমাধান হলেও, এর কয়েক মাসের মধ্যেই ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে। সেবারও টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে পরিচালকদের সংগঠন শ্যুটিং বন্ধের ডাক দেয়। যদিও পরে সেই সমস্যারও সাময়িক সমাধান হয়। তবে, ফের একই ধরনের ঘটনা ঘটায় টলিউড ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কবে এই অচলাবস্থা কাটবে এবং স্টুডিওপাড়া তার পুরনো ছন্দে ফিরবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন সকলেই।