‘চাকরি হারানোর জেরেই আত্মহত্যা কুলতলির শিক্ষকের’, দাবি BJP-র! মিথ্যা ফাঁস করল পুলিশ

কুলতলির শিক্ষক প্রণব নাইয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভুয়ো’ তথ্য ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিজেপির দাবি ছিল, চাকরি হারানোর হতাশায় ওই শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশের তদন্তে এই তথ্য ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, প্রণব নাইয়া ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলের শিক্ষক ছিলেন না এবং চাকরি হারানোর কোনও ঘটনাই ঘটেনি।

এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন এলাকায় হিংসার ঘটনায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের শেয়ার করা ছবিগুলিও পুলিশ ভুয়ো বলে দাবি করেছে। এরপর সুকান্ত মজুমদার নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে সেই ছবিগুলি সরিয়ে নেন।

কুলতলির শিক্ষক প্রণব নাইয়ার আত্মহত্যা নিয়ে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে দাবি করা হয়, তিনি চাকরি হারানোর জেরেই আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পুলিশের তদন্তে জানা যায়, প্রণব নাইয়া ২০১২ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৫ সালে মুর্শিদাবাদের একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০২২ সালে তিনি জয়নগরের একটি স্কুলে যোগ দেন এবং সেখানেই কর্মরত ছিলেন।

বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পলাশকুমার ঢালি সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “মৃত শিক্ষক প্রণবকুমার নাইয়া ২০১২ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৫ সালে মুর্শিদাবাদের বেগমবাড়ির একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০২২ সালে বদলি হয়ে তিনি জয়নগরের টিএস সনাতন স্কুলে যোগ দেন। এখানেই স্কুলে কর্মরত ছিলেন প্রণব। তাঁর চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত করছে। তবে এটা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য দিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এমন ৩০-৪০টি অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেল বিজেপির এই মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তারা জানিয়েছে, “২০১২ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রণব নাইয়া, যিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন, তাঁকে ২০১৬ সালের বাতিল এসএসসি প্যানেলের শিক্ষক হিসেবে প্রচার করছে বিজেপি।”

এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে দাবি করেছে।