বিশেষ: পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সংগ্রহের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ‘লিকুইড ব্যাটারি’, বিদ্যুৎ সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত

পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের ব্যবহারকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে অভিনব এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এবার বিদ্যুৎকে তরল জ্বালানির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যাবে। এই নতুন আবিষ্কার সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নব renewable energy ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রধান মাধ্যম হল ব্যাটারি। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা করে প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করা হয়। ছোটখাটো ব্যবহারের জন্য লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, বড় পরিসরে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এর বিপুল খরচ একটি বড় বাধা। সেই কারণে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এর বিকল্পের সন্ধান করছিলেন।
এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক। তারা ‘লিকুইড অর্গানিক হাইড্রোজেন ক্যারিয়ার (এলওএইচসি)’ ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। গবেষকরা এই পদ্ধতিকে ‘লিকুইড ব্যাটারি’ নামে অভিহিত করছেন। এই পদ্ধতিতে উচ্চ তাপমাত্রায় বিভিন্ন প্রভাবক ব্যবহার করে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ‘হিউম্যানিটি অ্যান্ড সায়েন্সেস’ বিভাগের রসায়ন অধ্যাপক রবার্ট ওয়েমাউথ এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিদ্যুৎ গ্রিডে উৎপাদিত বিদ্যুতের সমান পরিমাণে খরচ হওয়া প্রয়োজন। যদি সেই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ব্যবহার না করা হয়, অথবা তা সংরক্ষণের কোনো উপায় না থাকে, তাহলে সেই বাড়তি বিদ্যুৎ নষ্ট হয়।”
ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুগান্তকারী আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ‘কোবাল্টোসিন’ নামক একটি বিশেষ উপাদান। এই উপাদানটি বিদ্যুৎ সংগ্রহ ও নির্গমনের বিক্রিয়া চলাকালীন প্রভাবক হিসেবে কাজ করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই প্রক্রিয়ায় কোনো হাইড্রোজেন গ্যাস নির্গত হয় না।
অধ্যাপক ওয়েমাউথ আরও বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মৌলিক বিজ্ঞান। তবে, আমরা মনে করি তরল জ্বালানির মধ্যে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের একটি নতুন এবং কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছি।”
এই গবেষণার বিস্তারিত তথ্য ‘কোবাল্টোসিন-মিডিয়েটেড ক্যাটালিটিক হাইড্রাইড ট্রান্সফার: স্ট্র্যাটেজিস ফর ইলেক্ট্রোক্যাটালিটিক হাইড্রোজিনেশন’ শীর্ষক নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে, যা ‘জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি’তে স্থান পেয়েছে। বিজ্ঞানীদের এই নতুন উদ্ভাবন বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের দিকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।